ময়মনসিংহের ভালুকায় দ্বিতীয় শ্রেণির মাত্র সাত বছর বয়সী এক শিশু ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে মোহাম্মদ আলী নামে এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটির পর ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী বাগেরহাটের কচুয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ীর কাশর চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত ‘মাদ্রাসাতুত তাকওয়া’ নামক কওমি মাদরাসার বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২ নভেম্বর সকালে ভুক্তভোগী শিশুটি মাদরাসায় শিক্ষক মোহাম্মদ আলীকে ক্লাসের পড়া দিতে যায়। সে সময় শিক্ষক পড়া নেওয়ার অজুহাতে শিশুটির সাথে অত্যন্ত আপত্তিকর ও খারাপ অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করেন। শুধু তা-ই নয়, নিজের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন অশ্লীল ভিডিও দেখিয়ে শিশুটির সাথে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অপচেষ্টা চালান। মাদরাসা শেষে ভুক্তভোগী শিশুটি বাসায় ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনগণ অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আলীকে আটক করে ভালুকা মডেল থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের অপকর্মের কথা স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে ওই মাদরাসায় শিক্ষক মোহাম্মদ আলীর কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে হতবাক হয়ে পড়েন পুলিশ ও স্থানীয়রা। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক হালুয়া, তন্ত্রমন্ত্র ও জাদুটোনার বই, বিভিন্ন ব্যক্তির মন্ত্র লেখা ছবি, শত শত তাবিজ এবং নানা ধরনের কবিরাজি সরঞ্জামাদি জব্দ করে পুলিশ।
- তদন্তে উঠে আসে, পবিত্র দ্বীনি শিক্ষাদানের আড়ালে এই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষদের বিভ্রান্ত করে কবিরাজি চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। শিক্ষকতার মতো সম্মানজনক পেশাকে হাতিয়ার করে তিনি ভেতরে ভেতরে অনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটির বাবার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামি স্বীকারোক্তি দেওয়ায় তাকে আদালতের মাধ্যমে বিজ্ঞ বিচারকের আদেশে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া জব্দকৃত বিভিন্ন অবৈধ উপাদান ও তান্ত্রিক কবিরাজি সরঞ্জামাদির পেছনে অন্য কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


