গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় একটি চারতলা ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে শাহীন হোসেন (৩২) নামের এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ নভেম্বর) রাত আটটার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় অবস্থিত দুলাল মিয়ার বাড়ির চারতলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। লাশের গলায় তার পেঁচানো গভীর ক্ষতচিহ্ন দেখে প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত শাহীন হোসেন শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের নয়াগাঁও গ্রামের রতন মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় রাজাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে নিহতের বড় ভাই আজাহার হোসেন জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে শাহীন পারিবারিক বাসা থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যদের সাথে তার কোনো যোগাযোগ বা ফোনকল ছিল না। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আলমগীর হোসেন নামের শাহীনের এক বন্ধু তাকে ফোন করে জানান যে শাহীনকে হত্যা করা হয়েছে। এই খবর পেয়ে তিনি দ্রুত রাজেন্দ্রপুরের ওই ভাড়া বাসায় ছুটে যান। তবে সেখানে পৌঁছে তিনি বাসাটির মূল দরজা বাইরে থেকে শক্তভাবে তালাবদ্ধ দেখতে পান। ঘটনাটির তাৎক্ষণিক গুরুত্ব উপলব্ধি করে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশকে অবহিত করেন। পরে রাত আটটার দিকে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের তালা ভেঙে প্রবেশ করে এবং খাটের ওপর শাহীনের লাশ দেখতে পায়।
পরিবারের সদস্য ও উদ্ধারকারী পুলিশের তথ্যমতে, শাহীনের গলায় স্পষ্ট আঘাতের গভীর দাগ রয়েছে। দুর্বৃত্তরা শক্ত জিআই তার গলায় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের মূল আলামত ঢাকা দেওয়া এবং ঘটনাটি দেরিতে প্রকাশের উদ্দেশে ঘাতকেরা ঘরের বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, যে কক্ষ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেটি বাইরে থেকে তালা মারা অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিক আলামত বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে যে, সুবিধাজনক সময়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনাস্থলের আশেপাশে থাকা প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উক্ত বাসায় এক তরুণীর সাথে সাবলেট বা যৌথভাবে বসবাস করতেন শাহীন। তবে নির্মম এই ঘটনার পর থেকে সেই তরুণীকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। এই রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং এ বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


