খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই আগস্ট ২০২৬, ৯:১২ পিএম
মেডিকেল প্যাথলজির মূল কাজ হলো রোগীর রক্ত, প্রস্রাবসহ নানা ধরনের শারীরিক পরীক্ষার নমুনা সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা। কিন্তু সেই চিকিৎসাসংক্রান্ত ফ্রিজ খুলতেই চোখ কপালে ওঠার মতো অবস্থা হলো তদারকি দলের। নমুনার বদলে থরে থরে সাজানো তাজা মাছ! টাঙ্গাইলের সখীপুরে চিকিৎসা সেবার নামে এমন চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অনিয়ম ধরা পড়েছে সরকারি অভিযানে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সখীপুর উপজেলা সদরে স্বাস্থ্যসেবা খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও ভোক্তার অধিকার রক্ষায় আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল।
তদারকি দল প্রথমে পরিদর্শন করে সখীপুরের নিধি ডায়াগনো কমপ্লেক্স। সেখানে ভেতরে ঢুকে প্যাথলজি বিভাগের নির্দিষ্ট ফ্রিজটি খুলতেই চিকিৎসাসেবার ভয়াবহ চিত্র সামনে আসে। ল্যাবরেটরির সংবেদনশীল ফ্রিজে রোগ নির্ণয়ের উপাদানের পরিবর্তে সংরক্ষিত ছিল বেশ কিছু তাজা মাছ। চিকিৎসা সরঞ্জামের সাথে কঁচা ও তাজা মাছ রাখা স্বাস্থ্যবিধির মারাত্মক লঙ্ঘন। এতে করে প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট ভুল আসার পাশাপাশি রোগজীবাণু ছড়ানোর প্রচণ্ড ঝুঁকি থাকে।
এমন গুরুতর অপকর্ম ও ভোক্তাস্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিধি ডায়াগনো কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে ২৫ হাজার টাকা প্রশাসনিক জরিমানা করা হয়।
একই অভিযানে তদারকি দল উপজেলার অপর চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র গ্রিণ লাইফ হসপিটালে তল্লাশি চালায়। সেখানে রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য রাখা কয়েকটি ক্যানুলার মেয়াদের তারিখ পার হয়ে গেছে বলে ধরা পড়ে। মেয়াদোত্তীর্ণ এসব ক্যানুলা রোগীদের শরীরে ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকারক। এই অনিয়মের কারণে গ্রিণ লাইফ হসপিটাল কর্তৃপক্ষকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সব মিলিয়ে এ দিনের অভিযানে সখীপুরের দুটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড হাসপাতাল থেকে সর্বমোট ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। সেই সাথে সাধারণ মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ল্যাব পরিষ্কার রাখা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ না রাখা এবং অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করানোর বিষয়ে পার্শ্ববর্তী আরও বেশ কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে কঠোরভাবে সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে।
অভিযান শেষে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জানান, মানুষের জীবন-মরণ যেখানে জড়িয়ে থাকে, সেখানে এ ধরনের অবহেলা কোনোভাবেই সহ্য করার মতো নয়। সাধারণ রোগীরা যাতে সঠিক চিকিৎসা পান এবং প্রতারিত না হন, তা নিশ্চিত করতে ক্লিনিক ও প্যাথলজি কেন্দ্রগুলোতে অনিয়মের বিরুদ্ধে তাদের এই তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য