সড়ক-ফুটপাতে হকার বসলেই মামলা, মালামাল জব্দ: ডিএসসিসি

রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে দোকান বসালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং জব্দ করা হবে দোকানের মালামাল। এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, এত দিন হকারদের সড়ক ও ফুটপাত ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এখন থেকে নির্ধারিত নিয়মের বাইরে দোকান বসালে আর ছাড় দেওয়া হবে না; নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ডিএসসিসির সাপ্তাহিক ‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অবৈধ হকারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজধানীর যানজট, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির পেছনে অবৈধ হকার ও ভাসমান দোকানের ভূমিকা রয়েছে। এসব কারণে নগরবাসীকে প্রতিদিন নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নগরবাসীকে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে চায়।

তিনি বলেন, মানবিকতার দোহাই দিয়ে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে রাখার সুযোগ নেই। নির্ধারিত নিয়মের বাইরে কেউ দোকান বসালে তাঁর মালামাল জব্দ করার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজধানীর ফুটপাত পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ফুটপাতের বড় অংশ দোকানপাটের দখলে চলে গেলে পথচারীদের অনেক ক্ষেত্রে মূল সড়ক দিয়ে চলতে হয়। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও শারীরিকভাবে চলাচলে অসুবিধা রয়েছে—এমন মানুষের জন্য দখল হয়ে থাকা ফুটপাত বাড়তি সমস্যার সৃষ্টি করে।

তবে হকারদের জীবিকা নির্বাহের বিষয়টিও নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা, নির্ধারিত বিক্রয়স্থল এবং নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ তৈরির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ডিএসসিসির ঘোষিত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয় কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি প্রশাসক।

নিউমার্কেটে আবারও উচ্ছেদ অভিযান

নিউমার্কেট এলাকার সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আগামী সপ্তাহে আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন আবদুস সালাম। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না।

নিউমার্কেট রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা। সেখানে ক্রেতা, দোকানদার ও পরিবহন চলাচলের চাপ থাকে। এর মধ্যে ফুটপাত ও সড়কের অংশবিশেষ দখল হয়ে থাকলে যানজট ও পথচারীদের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। নতুন করে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক এ ধরনের দখল বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

তবে উচ্ছেদ অভিযানের সুনির্দিষ্ট তারিখ, কতটি দোকান এর আওতায় আসবে কিংবা অভিযানের পর দখল ঠেকাতে কী ধরনের নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর

পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধেও নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, ডাবের খোসা কিংবা অন্য কোনো স্থানে জমে থাকা পানি মশার প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। তাই শুধু সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

এ বিষয়ে নগরবাসীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, রাজধানীর পরিবেশ রক্ষা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি সচেতনতামূলক র‍্যালি ও প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত থাকবে।

মালিবাগে এসটিএস স্থানান্তর, নতুন কেন্দ্রের কাজ চলছে

মালিবাগে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ের সামনে থাকা সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) স্থানান্তরের বিষয়েও কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

তিনি জানান, সিআইডি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে জনস্বার্থে ওই এসটিএস সরিয়ে সেখানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সচল রাখতে নতুন একটি এসটিএস নির্মাণ করা হচ্ছে। চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যেই এর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এসটিএস হলো এমন একটি নির্ধারিত কেন্দ্র, যেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য অস্থায়ীভাবে জমা করা হয়। পরে সেখান থেকে বর্জ্য পরিবহনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। নগরের বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহনের ব্যবস্থায় এ ধরনের কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে এসব স্থাপনার অবস্থান, পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ঠিক না থাকলে আশপাশের পরিবেশে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

নতুন এসটিএস নির্মাণ শেষ হলে মালিবাগ এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা বাস্তবায়নের পর স্পষ্ট হবে।

সিআইডি কার্যালয় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা অভিযান

শনিবারের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান শুরু হয় মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ের সামনে থেকে। এরপর শান্তিনগর, কাকরাইল ও নয়াপল্টন হয়ে ফকিরাপুলে গিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।

অভিযান চলাকালে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ এবং অবৈধ দোকান উচ্ছেদের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে সিটি করপোরেশনের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশ নেন।

এ ছাড়া নগরবাসীকে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, যেখানে-সেখানে বর্জ্য না ফেলা এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে সচেতন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাইকিং ও সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়োজন করা হয়।

রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমানো—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে ডিএসসিসি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে নিয়মিত তদারকি, আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা এবং নগরবাসীর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিশেষ করে উচ্ছেদের পর আবার যাতে একই জায়গায় অবৈধ দোকান বসতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।