টাঙ্গাইলের মধুপুরে মায়ের সম্পত্তির অংশ দাবি করে দাদা-দাদির বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গিটিস নকরেক নামে এক গারো যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পত্তির হিস্যা লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে তিনি প্রথমে বৃদ্ধ দাদা-দাদিকে মারধর করেন এবং পরে তাদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়নের পাহাড়ি জনপদ ধরাটি পশ্চিমপাড়া গ্রামে।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও গিটিস নকরেকের আত্মীয় অবিনাশ নকরেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গিটিস বেশ কিছুদিন ধরে তার মায়ের সম্পত্তির অংশ দাবি করে আসছিলেন। এ নিয়ে দাদা-দাদির সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।
অবিনাশ নকরেকের ভাষ্য অনুযায়ী, গারো সম্প্রদায়ের প্রচলিত পারিবারিক রীতিতে সম্পত্তির মালিকানা ও উত্তরাধিকার নির্ধারণে মাতৃসূত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গিটিসের মা শাপলী নকরেক প্রায় এক যুগ আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি এক ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে যান। গিটিসের তিন মামি বা বোন বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছেন। আর গ্রামের বাড়িতে থাকেন তার বৃদ্ধ দাদা সনেন্দ্র চিরান ও দাদি সীতা নকরেক।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, গিটিস স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছিলেন। তবে নেশায় জড়িয়ে পড়ার কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি পরীক্ষায় অংশ নেননি। গত কয়েক দিন ধরে তিনি মায়ের সম্পত্তির অংশ তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য দাদা-দাদির ওপর চাপ দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়, গারোদের প্রচলিত উত্তরাধিকারব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট ভূমি আইনের বিধান অনুযায়ী তিনি ওই সম্পত্তির অংশ পাবেন না। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় বলে জানান স্বজনেরা।
অভিযোগকারী অবিনাশ নকরেক বলেন, রোববার ভোররাতে গিটিস দাদা-দাদিকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেন। এরপর তিনি ওই ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ঘরের ভেতরে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী বের করে নেওয়ার সুযোগ পাননি পরিবারের সদস্যরা।
আগুনে ঘরে মজুত থাকা ধান-চাল, কাপড়চোপড়, বাসনকোসন, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী পুড়ে গেছে। এতে পরিবারটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ কীভাবে সহিংসতায় রূপ নিল, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


