সরকারের পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে, হাসিনাকে স্বাগত জানালেন জি এম কাদের

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং বন্যাদুর্গত মানুষের চরম দুর্ভোগ নিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রংপুর নগরীর দর্শনা এলাকায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে জি এম কাদের দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে এরশাদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং জিয়ারতে অংশ নেন।

বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ ও সরকারের ভূমিকা

দেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির দিকে আঙুল তুলে জি এম কাদের বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা এখন বন্যার পানিতে ডুবে আছে। বানভাসি মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। অথচ বন্যাদুর্গত মানুষের দুঃখ ও কষ্ট লাঘবে এই সরকারের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।

সরকার প্রধানের উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আপনি নিজে ওসব এলাকায় যান, বানভাসিদের অবস্থা দেখেন। শুধু দলের নেতা-মন্ত্রীদের পাঠিয়ে কোনো লাভ হবে না।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি আর বিরোধী দলের নেতারা বন্যাদুর্গত এলাকায় গিয়ে কাজের কাজ কিছু না করে মূলত ফটোসেশন করছেন, যা দুঃখজনক।

গণ-আন্দোলন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক আন্দোলন নিয়ে নিজের ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি এটিকে ‘গণ-অভ্যুত্থান’ বলতে নারাজ। জি এম কাদেরের মতে, ২৪-এর জুলাই আন্দোলনকে আমি গণ-অভ্যুত্থান মনে করি না; এটা ছিল একটা গণ-আন্দোলন। এই আন্দোলন এখনো পুরোপুরি সফলও নয়, আবার বিফলও নয়। তবে আন্দোলন এখানেই থমকে থাকেনি। ২৪-এর গণ-আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। এই আন্দোলন একদিন অবশ্যই তীব্র গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেবে এবং সেই দিন খুব বেশি দূরে নয়।

ভূ-রাজনীতি ও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন

বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জাপা চেয়ারম্যান দাবি করেন, বর্তমান সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা কখনোই বাস্তবায়ন করতে পারবে না। কারণ এই সরকারের প্রতি কোনো দেশের আস্থা নেই। বর্তমান প্রশাসনের পায়ের তলার মাটি ক্রমেই সরে যাচ্ছে। চীন, ভারত কিংবা যুক্তরাষ্ট্র—কেউই তাদের বিশ্বাস করছে না।

এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গটি ইতিবাচকভাবে দেখছেন তিনি। জি এম কাদের বলেন, শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেই ঘোষণাকে আমরা স্বাগত জানাই। তার দেশে আসা উচিত। এ দেশের জন্য তার বাবা ও পরিবারের অনেক অবদান আছে। তিনি দেশে ফিরলে আওয়ামী লীগের মধ্যে এখন যে অস্তিত্ব সংকট চলছে, তা দূর হতে পারে। আর তিনি যদি না আসেন, তবে দেশ আরও বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সংসদে ‘লোক দেখানো’ বিরোধিতা

শোকসভায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বর্তমান সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এখন জাতীয় সংসদে কার্যত একটাই রাজনৈতিক দল। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি ভাগাভাগি করে কথা বলে। সংসদে তারা যে তর্কবিতর্ক করছে, তা নিছক লোক দেখানো বিরোধিতা। দেশের প্রকৃত মঙ্গল বা মানুষের কল্যাণের জন্য তাদের কারও মনে কোনো চিন্তাভাবনা নেই।

অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। এরশাদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।