ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও বালুভর্তি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বেড়তলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাসের অন্তত ১৫ যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নিহত দুই যাত্রীর নাম সৌরভ (৩২) ও আসিফ (২৬)। সৌরভের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে। অপর নিহত আসিফের বাড়ি কোথায়, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রংপুর থেকে দিগন্ত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস সিলেটের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বেড়তলা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুভর্তি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাসটি সড়কে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়েন এবং অনেকে আহত হন। বাসটি উল্টে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৌরভ ও আসিফের মৃত্যু হয়।
আহতদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত ব্যক্তিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে আহতদের সবার পরিচয় এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যে বিস্তারিত জানা যায়নি। একইভাবে বাস ও ট্রাকের গতি, সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা দুর্ঘটনার সময় সড়কের পরিস্থিতি সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ও অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। ব্যস্ত এ মহাসড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষের মতো দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে বিপরীতমুখী যানবাহনের চলাচলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত লেন মেনে চলা, নিরাপদ গতিসীমা বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত দূরত্ব নিশ্চিত করা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সরাইলের বেড়তলায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এসবের কোনোটি দায়ী ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের আগে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল হালিম জানান, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়দায়িত্ব নিরূপণে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা জানা যাবে।
একটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজনের প্রাণহানি এবং অন্তত ১৫ জনের আহত হওয়ার ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে দীর্ঘপথের যাত্রীবাহী বাস চলাচলে চালকদের সতর্কতা, যানবাহনের নিরাপদ পরিচালনা এবং মহাসড়কে ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে মেনে চলার গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


