সাভারে আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে গোপনে গড়ে তোলা দেশীয় মদের কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে পৌর এলাকার হেমায়েতপুরের পূর্বহাটি এলাকার ‘মীন টাওয়ার’ থেকে ১৩ বালতি প্রস্তুতকৃত মদ এবং মদ তৈরির বিপুল সরঞ্জামসহ এক চীনা নাগরিক ও এক বাংলাদেশি নারীকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—প্রতিনিধি ও প্রযুক্তিবিদ হিসেবে কাজ করা চীনা নাগরিক ফিলি লিহান (৫৪) এবং স্থানীয় বাসিন্দা চম্পা দাস। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আবাসিক এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে অবৈধভাবে মদ তৈরি এবং সরবরাহ করে আসছিলেন।
ঘটনার স্থান ও পুলিশের অভিযান সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল পূর্বহাটি এলাকার মীন টাওয়ারে একটি পৃথক অভিযোগের তদন্ত ও সরেজমিন অনুসন্ধানে যায়। তদন্ত চলাকালে ভবনের একটি ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে সন্দেহজনক দুর্গন্ধ ও কর্মকাণ্ড পুলিশের নজরে আসে। পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালালে ঘরজুড়ে সক্রিয় একটি পূর্ণাঙ্গ মদ তৈরির মিনি কারখানার সন্ধান পান। এ সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় চম্পা দাস ও চীনা নাগরিক ফিলি লিহানকে।
অভিযান পরিচালনাকারী দল ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে ১৩টি প্লাস্টিকের বড় বালতি ভর্তি প্রক্রিয়াজাত দেশীয় মদ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে মদ প্রক্রিয়াজাতকরণ, চোলাই ও রাসায়নিক মিশ্রণের কাজে ব্যবহৃত নানা ধরনের প্লাস্টিক ড্রাম, পাইপ, থার্মোমিটার ও ফিল্টারিং সরঞ্জামসহ বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গৃহকর্মী ও সহযোগী হিসেবে চম্পা দাস গত আড়াই বছর ধরে ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে মদের কারখানাটি পরিচালনা করে আসছিলেন। চীনা নাগরিক ফিলি লিহানের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি চোলাই ও রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে প্রতিনিয়ত বাংলা মদ তৈরি করতেন এবং তা কৌশলে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি সুনির্দিষ্ট মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ তালিকাভুক্ত করে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সাথে স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনানুগ তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।


