সাভারে ৮ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও অভিযুক্তকে হেফাজতে নিতে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে সাভারের তঁতীবাজার এলাকার ওই নূরানী ক্যাডেট মাদ্রাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে সাভার মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আটক শিক্ষকের নাম মো. তোফায়েল আহমেদ (৪২)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ভুক্তভোগী শিশুটি একই প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালে মাদ্রাসায় পড়তে যায় ওই শিশুটি। বেলা ১১টার দিকে মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ছুটি হয়ে গেলে অভিযুক্ত তোফায়েল আহমেদ কৌশলে ওই ছোট শিশুটিকে একটি নির্জন কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে দরজা বন্ধ করে দিয়ে শিশুটিকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করে এবং জীবন বাঁচাতে প্রচণ্ড চিৎকার দেয়।
শিশুটির কান্নার আওয়াজ পেয়ে মাদ্রাসার বাইরে থাকা স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও অভিভাবক দ্রুত ভেতরে ছুটে আসেন। বন্ধ ঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে অভিযুক্ত শিক্ষক ভেতর থেকে দরজা খুলে দিতে বাধ্য হন। পরে আতঙ্কিত শিশুটি কান্নারত অবস্থায় উপস্থিত স্বজন ও এলাকাবাসীর কাছে শিক্ষকের অপকর্মের কথা প্রকাশ করে দেয়।
ঘটনার বিবরণ শুনে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। তারা মাদ্রাসার ভেতরেই অভিযুক্ত শিক্ষককে ঘিরে রেখে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে ক্ষুব্ধ জনতা যাতে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সেজন্য বুদ্ধিমান কিছু বাসিন্দা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশে খবর দেন।
খবর পাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সাভার মডেল থানা পুলিশ এবং স্থানীয় ফাঁড়ির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা উত্তেজিত জনতার মধ্য থেকে শিক্ষককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন এবং সাভার মডেল থানায় নিয়ে যান। একই সাথে আতঙ্কিত শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
নৃশংস ও অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার কথা জানতে পেরে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে উঠে বুধবার বিকেলেই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে আটক করেছে। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা হওয়ার পর তা নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিক্ষক ঘটনা সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং কঠোর আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

