ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেক আসরেই দারুণ পারফর্ম করে নতুন আলো ছড়াচ্ছেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেট নেওয়ার পর এবার শক্তিশালী ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। তাঁর এই নৈপুণ্যে ত্রিনবাগোকে উড়িয়ে দিয়ে ৮ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে সহজ জয় তুলে নিয়েছে গায়ানা।
ম্যাচে প্রতিপক্ষ ত্রিনবাগোর ব্যাটিং লাইনআপে প্রথম ধসটি নামান মিরাজ নিজেই। ইনিংসের শুরুতে টানা দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে গায়ানাকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন তিনি। ১৫ বলে ২৬ রান তুলে বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আভাস দেওয়া কলিন মুনরোকে নিখুঁত ডেলিভারিতে বোল্ড করেন তিনি। ঠিক তার পরের বলেই শূন্য হাতে ফিরিয়ে দেন দলের অন্যতম ভরসা নিকোলাস পুরানকে। পরবর্তীতে ইনিংসের ১৩তম ওভারে বোলিংয়ে ফিরে জিড গুলিকে একটি চতুর গুগলিতে বিভ্রান্ত করে বোল্ড করেন মিরাজ। এরপরের ওভারে ক্যারিবিয়ান স্পিন জাদুকর সুনীল নারাইনকেও বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখান তিনি। চার ওভারের কোটা শেষে ২৩ রান খরচায় ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন এই বাংলাদেশি অফস্পিনার।
প্রথম ম্যাচে ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট এবং এই ম্যাচে ২৪ রানে ৪ উইকেট—দুটি ম্যাচ মিলিয়ে সিপিএলে তাঁর ইকোনমি রেট দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫.১৫। টুর্নামেন্টের এই মৌসুমে এত নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর বোলিং গড় আর কোনো বোলার দেখাতে পারেননি। ম্যাচজয়ী এই বোলিং পারফর্ম্যান্সের সৌজন্যে স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তাঁর হাতে।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এটা আমার জন্য সত্যিই দারুণ একটি মুহূর্ত। প্রথমবারের মতো সিপিএল খেলতে এসেই ম্যান অব দ্য ম্যাচ হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। মাঠে আজকের সময়টা আমি দারুণভাবে উপভোগ করেছি।’
টানা এমন সাফল্যের মূল মন্ত্র কী, সে রহস্য উন্মোচন করতে গিয়ে মিরাজ জানান, পিচের চরিত্র বুঝতে পারাই ছিল তাঁর মূল চাবিকাঠি। উইকেট কিছুটা টার্নিং ছিল এবং স্পিনাররা বাড়তি সহায়তা পাবে—এমনটা দেখেই সঠিক জায়গায় লাগাতার বল করে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। বাড়তি কিছু না করে স্রেফ লেংথ সঠিক রেখে উইকেট তুলে নেওয়াতেই মনোযোগ দিয়েছেন তিনি।
টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিরাজ যোগ করেন, বার্বাডোসের বিপক্ষে তাঁদের নিয়মিত পর্বের আরেকটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। সেই ম্যাচটি চ্যালেঞ্জিং হলেও জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। এরপর প্লে-অফে নির্ধারিত ম্যাচগুলো জিতে দলকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়া এবং ট্রফি জেতাই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য।


