সিলেটে এক কিশোরীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলায় আবদুল্লাহ মিয়া নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিন জনাকীর্ণ আদালতে আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবদুল্লাহ মিয়া সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বগাইয়া হাওড় (দক্ষিণপাড়া) গ্রামের মন্তাজ আলীর ছেলে। রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোশতাক আহমদ।
মামলার নথি ও বিচারিক আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে স্থানীয় বগাইয়া হাওড় গ্রামের ওই কিশোরী নিজ বাড়িতে একা অবস্থান করছিল। সেই সুযোগে প্রতিবেশী আবদুল্লাহ মিয়া ঘরে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ভয়াবহ এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে গোয়াইনঘাট থানায় আবদুল্লাহ মিয়াকে একমাত্র আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ নিবিড় তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্ত কর্মকর্তা ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষা, আলামত সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ জোগাড় করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। আদালত পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কাজ শুরু করেন।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালে আদালত বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের যুক্তি শোনেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। উপস্থাপিত সব সাক্ষ্যপ্রমাণ, মেডিকেল রিপোর্ট ও আলামত বিশ্লেষণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মোশতাক আহমদ জানান, জঘন্য এ অপরাধের জন্য একমাত্র আসামি আবদুল্লাহ মিয়াকে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। বিচারিক আদালতের এই কঠোর রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


