সিলেটে হামের উপসর্গে মৃত ১২২, আরও দুই শিশুর মৃত্যু
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই আগস্ট ২০২৬, ৪:২২ পিএম
সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ এই দুই মৃত্যুর পর বিভাগে হাম অথবা হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ জনে। একই সময়ে নতুন করে আরও বহু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়।
মৃত শিশুদের একজন সিলেট সদর উপজেলার বাসিন্দা নুরুল আমিনের এক বছর পাঁচ মাস বয়সী ছেলে ইয়ামিন। অপরজন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল মুনিবের আট মাস বয়সী মেয়ে আনিসা। উভয় শিশুই হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৯৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সঙ্গে আগের ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে নতুন করে আরও ৯৩ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিভাগজুড়ে রোগীর চাপ এখনও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রাণ হারানো ১২২ জনের মধ্যে মাত্র ছয়জনের ক্ষেত্রে পরীক্ষাগারে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছিল। বাকি ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। অর্থাৎ, তাদের সবার ক্ষেত্রে পরীক্ষাগারে সংক্রমণ নিশ্চিত না হলেও উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষায় মোট ৭৮৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এই সংখ্যা বিভাগে সংক্রমণের বিস্তৃতি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দিচ্ছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বিশেষ করে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি এই রোগের প্রধান লক্ষণ। রোগ প্রতিরোধে সময়মতো টিকাদানকে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সিলেটে ধারাবাহিকভাবে নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া এবং হাসপাতালে ভর্তি বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে। বিভাগীয় হাসপাতালগুলোতে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য