খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
সারা দেশে গত ২১ দিনে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৯৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও গ্যাং সদস্যরা রয়েছেন। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৫৬টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ৯৯০ রাউন্ড গোলাবারুদ। পাশাপাশি আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৫ হাজার ২৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁদের অনেকে কুখ্যাত অপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ঢাকা সেনানিবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টরেটের স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কিশোর গ্যাং, ডাকাত, অপহরণকারী ও চাঁদাবাজ রয়েছেন। এর মধ্যে ২৭ মে কুষ্টিয়া থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী ও তাঁর সহযোগী মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাতিরঝিল এলাকা থেকে শুটার আরাফাত ও শরীফকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে পাঁচটি বিদেশি পিস্তল, ১০টি ম্যাগাজিন, ৫৩ রাউন্ড গুলি ও একটি স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া একইদিনে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় আরও একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বুড়িগঙ্গা ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ফরিদ আহমেদ বাবু ওরফে এক্সেল বাবুসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং ভূমি দখলের মতো গুরুতর অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযানের ফলে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও নিরাপত্তা বিরাজ করছে।
কর্নেল শফিকুল ইসলাম জানান, গত ৪ জুন মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প এলাকা থেকে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বুনিয়া সোহেলকে ১০ জন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। সোহেলের বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি মামলা রয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ, বিভিন্ন ধরনের ধারালো দেশীয় অস্ত্র এবং মাদক উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, গত ৫ জুন কক্সবাজারের মাঝিরকাটা এলাকায় কুখ্যাত শাহীনুর রহমান ওরফে শাহীন ডাকাতকে তার দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, অপহরণ, মাদক, চাঁদাবাজিসহ ২০টির বেশি মামলা রয়েছে। এসময় ১টি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রসহ মোট ৪টি অস্ত্র, গোলাবারুদ, দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, ৬ জুন কুষ্টিয়ার দূর্বাচর এলাকায় অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর কবির লিপটনসহ চারজনকে। উদ্ধার করা হয় ছয়টি বিদেশি পিস্তল, একটি লং ব্যারেল গান, ১০টি ম্যাগাজিন ও ১১৯ রাউন্ড গুলি।
কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে গত তিন সপ্তাহে ৪৫২ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫ হাজার ৪৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য, যেমন ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, অবৈধ মদ ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়েছে যার মাধ্যমে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও নিরাপত্তা বিরাজ করছে। গত ৬ জুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের লুটেরচর এলাকায় একটি মদ তৈরির কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই কারখানায় গ্যাস লাইটার তৈরির নামে অবৈধভাবে মদ তৈরি করা হচ্ছিল। পরবর্তীতে কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযানকালে ৮ হাজার ৬২০ লিটার মদ এবং মদ উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল জব্দ করা হয়।’
কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদন্ডী ইউনিয়নে অতিবৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয় যার ফলে সমগ্র এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। সেনাবাহিনীর একটি দল জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে বাঁধ মেরামতের কার্যক্রম শুরু করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ লাঘব হয় ও জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে।
তিনি আরও জানান, টানা ভারী বর্ষণে হবিগঞ্জের কিছু এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগের ন্যায় বন্যা দুর্গত পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়ায়। গত ৭ জুন পবিত্র ঈদুল আজহার দিন সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যরা হবিগঞ্জ এলাকায় বন্যা দুর্গতদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে।
সেনাবাহিনীর এ কর্মকর্তা জানান, শিল্পাঞ্চল এলাকায় নিরাপত্তা বিধানে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সার্বিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। গত ২৭ মে সেনাসদরে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ঈদের আগেই শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় ও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ভেজাল খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভ্রাম্যমাণ আদালতের সহায়তায় মিরপুরের একটি চকলেট কারখানাকে ৭ লাখ টাকা জরিমানাসহ সাময়িক বন্ধের আদেশ জারি করে। যার মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
খবরওয়ালা/এসআর