আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় মরক্কোর এক নারী ও আলজেরিয়ার এক নারী নিহত হন। আহত হন ২৮ জন। আহতদের মধ্যে সৌদি নাগরিকের পাশাপাশি বিদেশি বাসিন্দারাও রয়েছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি ও একজন ফিলিপাইনের নাগরিকও আছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হলেও বেশির ভাগের আঘাতকে গুরুতর নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সবাইকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় সুদানের এক নাগরিক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন সৌদি নাগরিক, দুজন মিসরীয় ও একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের আঘাতের মাত্রা সামান্য থেকে গুরুতর—বিভিন্ন ধরনের বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। হামলায় বিমানবন্দর অবকাঠামোরও কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হামলার পর বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ও কার্যক্রম পর্যালোচনায় নামে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। GACA জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা যাচাই এবং যাত্রী ও বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনায় হামলার কারণে আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল বিমানবন্দরটির কার্যক্রম ব্যাহত করা। একই সময়ে আবহা বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের আরও কয়েকটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবিও করেছে গোষ্ঠীটি। এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, রিয়াদের উত্তরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্মও ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ধ্বংস করার দাবি করেছে জোট। তবে সামরিক অভিযানের এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই সীমিত।
নতুন হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই আবারও তীব্র হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী পশ্চিম ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল এবং কৌশলগত বাব এল-মানদেব প্রণালীর আশপাশে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা পুনর্দখলের অভিযান জোরদার করেছে। পাল্টা হুথিরাও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার সক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা করছে।
বাব এল-মানদেব প্রণালী লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। এ পথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ফলে ইয়েমেনের সামরিক সংঘাত এখন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট নয়; এর প্রভাব আঞ্চলিক বিমান ও নৌ যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।
এদিকে ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দর ঘিরেও সাম্প্রতিক সময়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি উড়োজাহাজ অবতরণের ঠিক আগে বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় সেটিকে জেদ্দায় ঘুরিয়ে নেওয়া হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। একই সময়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে সর্বশেষ হামলা তাই ইয়েমেন সংঘাতের নতুন মাত্রারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বেসামরিক বিমানবন্দরকে ঘিরে হামলা ও পাল্টা সামরিক অভিযানের বিস্তার আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমান ও জ্বালানি অবকাঠামো ঝুঁকির মধ্যে পড়ায় পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথের দিকে নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।


