হামলার বিষয়ে সৌদি জোট বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। বিশেষ করে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে কিংবা সেগুলো কোন ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। তবে হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
সতর্কতার আওতায় ছিল দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের আবহা, খামিস মুসাইত ও নারজান এবং পশ্চিমাঞ্চলের তাইফ শহর। সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় এসব এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়। কিছুক্ষণ পর সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এর পরপরই হুথিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা দেয় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
সতর্কতা জারির সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ভিডিও ধারণ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। এ ধরনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার বিষয়েও নিরাপত্তাগত সতর্কতার গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, হামলার সময় ও অবস্থানসংক্রান্ত দৃশ্য ধারণ বা প্রচার সামরিক কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশ করে দিতে পারে।
এদিকে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার আগে ইয়েমেনের হোদেইদা প্রদেশে বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিরুদ্ধে। হুথিদের দাবি, লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত রাস ইসা বন্দরে এবং বাজিল জেলার একটি তেল স্থাপনায় ওই হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। তাঁদের সবাই বেসামরিক নাগরিক বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
হুথিদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আলসাবাহি সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার বিবরণ তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাস ইসা বন্দরে প্রথম দফার বিমান হামলায় চারজন আহত হন। পরে বাজিল জেলার একটি তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হলে আরও তিনজন আহত হন।
আনিস আলসাবাহি অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও তেল স্থাপনাকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তাঁর দাবি, ইয়েমেনের বেসামরিক মানুষ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কোনো পাল্টা বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাস ইসা বন্দর ইয়েমেনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক স্থাপনা। লোহিত সাগরের তীরবর্তী এই বন্দরের সঙ্গে দেশটির জ্বালানি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে তেল স্থাপনাগুলো দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এসব অবকাঠামোয় হামলার অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইয়েমেনের সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে। দেশটিতে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত পক্ষগুলোর বিরোধের পাশাপাশি সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সরাসরি উত্তেজনাও বিভিন্ন সময়ে বেড়েছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
লোহিত সাগরও এই সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে। এই সমুদ্রপথ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে ইয়েমেনের বন্দর, তেল স্থাপনা কিংবা আশপাশের সামুদ্রিক এলাকায় সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব আঞ্চলিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের ওপরও পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক ঘটনায় একদিকে সৌদি জোটের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি, অন্যদিকে ইয়েমেনে বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষ আহত হওয়ার অভিযোগ—দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। তবে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি, ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা এবং ইয়েমেনে বিমান হামলার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য না থাকায় পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়।


