জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন রাজধানীর কোতোয়ালি থানা এলাকায় এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) মো. আফজাল নাছেরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (৫ মে, ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালতের কার্যক্রম ও শুনানি
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কে এম আবদুল হক আসামী মো. আফজাল নাছেরকে আদালতে হাজির করেন। তদন্ত কর্মকর্তা প্রথমে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন এবং পরবর্তীতে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন পেশ করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী জাহিদুল হাসান রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আফজাল নাছেরকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও ঘটনার বিবরণ
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি কোতোয়ালি থানার কোর্ট হাউস স্ট্রিট এলাকায় পৌঁছালে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের হামলার শিকার হয়। উক্ত হামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাস গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হন। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তিনি গত বছরের ২১ নভেম্বর বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মামলার প্রাথমিক তদন্তে উক্ত ঘটনার সাথে মো. আফজাল নাছেরের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
মামলার সারসংক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| আসামির পরিচয় | মো. আফজাল নাছের, সাবেক পরিচালক (ডিজিএফআই), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) |
| মামলার ধরন | হত্যাচেষ্টা মামলা (কোতোয়ালি থানা) |
| ঘটনার তারিখ | ১৬ জুলাই, ২০২৪ |
| ভুক্তভোগী | অনিক কুমার দাস, শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় |
| আদালতের আদেশ | ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর |
| তদন্ত কর্মকর্তা | কে এম আবদুল হক (উপ-পরিদর্শক) |
| গ্রেপ্তারের তারিখ | ৩০ মার্চ (মিরপুর ডিওএইচএস থেকে) |
আইনি পরিক্রমা ও পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট
মো. আফজাল নাছেরকে গত ৩০ মার্চ রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর থেকেই তাকে বিভিন্ন সময় একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সরকারের পটপরিবর্তনের পর গত জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে দায়েরকৃত বিভিন্ন মামলায় তার নাম আসায় ধাপে ধাপে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
কোতোয়ালি থানার এই হত্যাচেষ্টা মামলায় আসামির রিমান্ড কার্যকর করার মাধ্যমে ১৬ জুলাইয়ের সহিংস ঘটনার পরিকল্পনাকারী এবং সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। বর্তমানে আফজাল নাছেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, রিমান্ড চলাকালীন তার শারীরিক অবস্থা এবং আইনগত অধিকারের বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।



