খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই এপ্রিল ২০২৬, ২:১৭ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের দায়িত্বে থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করেছে ইরান, ফলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল শনিবার সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ডেস্ট্রয়ার—ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই পিটারসন এবং ইউএসএস মাইকেল মারফি—হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে আরব উপসাগরে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, এ অভিযান একটি বৃহত্তর সামরিক মিশনের অংশ, যার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) স্থাপিত মাইন সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা।
মার্কিন নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজগুলোর উপস্থিতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা একটি নতুন পথ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু করেছি এবং বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ উৎসাহিত করতে শিগগির এই নিরাপদ নৌপথ নৌপরিবহন খাতের সঙ্গে ভাগ করে নেব।’ তাঁর মতে, এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সারসহ বিভিন্ন পণ্যও এই পথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই প্রণালিতে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এতে বাণিজ্যিক ও সামরিক উভয় ধরনের জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। মার্কিন বিবৃতির পরপরই ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, হরমুজ প্রণালির দিকে মার্কিন জাহাজগুলোর অগ্রসর হওয়া ও প্রবেশের বিষয়ে সেন্টকম কমান্ডারের দাবি সঠিক নয়। তিনি বলেন, এই পথ দিয়ে যেকোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন।
এ ছাড়া কোনো সামরিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে আইআরজিসি কঠোর জবাব দেবে বলেও সতর্ক করেন ওই সামরিক কর্মকর্তা।
নিচে ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সংশ্লিষ্ট অঞ্চল | হরমুজ প্রণালি |
| মার্কিন পক্ষের দাবি | দুটি ডেস্ট্রয়ার প্রণালি অতিক্রম করেছে |
| জাহাজের নাম | ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই পিটারসন ও ইউএসএস মাইকেল মারফি |
| অভিযানের উদ্দেশ্য | স্থাপিত মাইন অপসারণ নিশ্চিত করা |
| মার্কিন মন্তব্য | নিরাপদ নৌপথ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ |
| ইরানের প্রতিক্রিয়া | মার্কিন দাবি নাকচ |
| ইরানের অবস্থান | প্রণালিতে চলাচল তাদের নিয়ন্ত্রণে |
| বৈশ্বিক গুরুত্ব | বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পরিবাহিত হয় |
| সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট | ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা |
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
মন্তব্য