হাওর এক্সপ্রেস থেকে পড়ে গার্মেন্টকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
নেত্রকোনা শহরে ট্রেনে কাটা পড়ে মুহিদ খান রিফাত (২২) নামে এক গার্মেন্টস কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোরে শহরের রাজুর বাজার রেল কালভার্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে।
নিহত মুহিদ খান রিফাত নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের বড় পাইকুড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মঈনুল কবীর খানের ছেলে। জীবিকার তাগিদে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছুটি নিয়ে তিনি রাজধানী থেকে হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে করে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। দীর্ঘদিন পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর উদ্দেশ্যেই তাঁর এই যাত্রা ছিল।
রিফাতের মামা লিলু মড়ল জানান, ভোরের দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিতে গিয়ে তারা জানতে পারেন, নেত্রকোনা শহরের রাজুর বাজার রেল কালভার্ট এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে একজন যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, নিহত ব্যক্তি রিফাতই।
নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার খানে আলম খান বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী রিফাত ট্রেনের চাকায় কাটা পড়ে রেললাইন থেকে ছিটকে পাশের একটি ডোবায় গিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করেন।
এদিকে নেত্রকোনা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আকামল জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ঘটনাস্থলে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি মোহনগঞ্জ সরকারি রেলওয়ে (জিআরপি) পুলিশকে জানানো হয়েছে। জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া, সুরতহাল প্রতিবেদন এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের দায়িত্ব জিআরপি পুলিশই সম্পন্ন করবে।
তবে কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। রিফাত চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়েছিলেন, নাকি অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সম্ভাব্য সাক্ষীদের বক্তব্য সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হবে।
রিফাতের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার গভীর শোকে ভেঙে পড়েছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে ঘটনাস্থলের পরিবেশ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যদের একজনকে হারিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
বাংলাদেশে প্রতিবছর বিভিন্ন কারণে রেলপথে দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা, দরজায় দাঁড়িয়ে ভ্রমণ, অসতর্ক চলাচল কিংবা দুর্ঘটনাজনিত কারণে প্রাণহানির ঘটনা প্রায়ই সামনে আসে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের আরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি রেলপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও সংশ্লিষ্টরা নিয়মিত তুলে ধরছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।