বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তারেক ওই গ্রামের বাসিন্দা অলিউর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক আগে মালয়েশিয়ায় থাকতেন। সেখানে মাদক সেবনের কারণে তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। দেশে ফিরে আবারও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, মাদক কেনার টাকার জন্য প্রায়ই বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করতেন এবং তাঁদের মারধর করতেন।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে মাদকের টাকা চেয়ে বাড়িতে ভাঙচুর চালান তারেক। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তার বাবা অলিউর রহমান তার হাত-পা বেঁধে বাড়ির পেছনে অবস্থিত একটি গোয়ালঘরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
সেখানে তারেককে মারধরের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে জানা গেছে। গুরুতর আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর অলিউর রহমানের পলাতক থাকার তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। তবে তিনি কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিয়েও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য সামনে আসেনি।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদক সেবন ও এর জন্য টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। নিহত তারেকের মাথার পেছনে এবং ডান কানের নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী পরিস্থিতিতে তারেকের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মাদকাসক্তিকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ কখনো কখনো সহিংস রূপ নিতে পারে। তবে এ ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণে তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযুক্ত অলিউর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন; আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।


