খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৩৬ পিএম
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৩ শিশু। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গজনিত অসুস্থতায় মোট ৮৭৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ছয় শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। অর্থাৎ, নতুন মৃত্যুগুলোর ক্ষেত্রে শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষার মাধ্যমে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭৫। এর বাইরে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৮ শিশু। ফলে হাম এবং হামের উপসর্গ—দুই হিসাব একসঙ্গে ধরলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৮৭৩।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের মধ্যেও নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, এ সময়ে ৭৫ শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়েছে ৯৮৮ শিশু। সব মিলিয়ে এক দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৩।
একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে নতুন ৯৩৮ শিশু। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯৪২ শিশু। অর্থাৎ, প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু চিকিৎসা নিয়ে বাড়িও ফিরছে। তবে মৃত্যুর ধারাবাহিকতা এবং বিপুলসংখ্যক উপসর্গযুক্ত রোগীর উপস্থিতি পরিস্থিতির ওপর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নজরদারি অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামগ্রিক হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ১১৫ জনের। অর্থাৎ, বিপুলসংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে হামের উপসর্গ দেখা গেলেও সব ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়নি।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে রোগটি জটিল আকার ধারণ করলে নিউমোনিয়াসহ গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সর্বশেষ প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান বলছে, দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা এখনও বড়। বিশেষ করে এক দিনে প্রায় এক হাজার শিশুর নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পরিস্থিতিটির ব্যাপকতা বোঝায়। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ, ভর্তি ও ছাড়পত্রের সংখ্যাও প্রতিদিনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠেছে।
১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত পাওয়া হিসাবকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাম ও হামের উপসর্গজনিত রোগী, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাবেও নিশ্চিত হাম এবং সন্দেহজনক বা উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যাতে রোগের প্রকোপ ও মৃত্যুর ধরন পৃথকভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
মন্তব্য