খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
দেশে হাম ও হামের উপসর্গজনিত পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগ এবং এর উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৬৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যা স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯৩ জনে।
সোমবার (২০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। সেখানে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে একজন করে আরও দুই শিশুর প্রাণহানি ঘটে। ফলে একদিনেই মোট পাঁচ শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত মোট ৭৯৩ জনের মৃত্যুর মধ্যে ৬৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে এবং পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছেন ৯৫ জন। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরও অনেক রোগীর ক্ষেত্রে পরীক্ষার আগেই জটিলতা তৈরি হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।
নতুন আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় আরও ১৪৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ৯২২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১৪ হাজার ৫৭৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৭০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।
হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ৬৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ১ হাজার ২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৯৭ হাজার ৫৩২ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। অর্থাৎ অধিকাংশ রোগী চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হলেও এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারেন। শিশুদের ক্ষেত্রে অপুষ্টি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা এবং সময়মতো টিকা না নেওয়া হলে জটিলতার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ এবং মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী হাম প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুর জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা গেলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।