হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৬ জনকে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

সোমবার (৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের প্রকাশিত তথ্য থেকে এসব বিষয় জানা গেছে। অধিদপ্তরের হিসাবে, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত এবং মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে।

ওই ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। অর্থাৎ সন্দেহজনক রোগীর তুলনায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম হলেও হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭২২ জনকে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৮০৮ জনে।

এই সময়ের মধ্যে হাম উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে তাদের সবার মৃত্যুর কারণ যে হাম, তা নিশ্চিত নয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১০২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামজনিত বলে শনাক্ত হয়েছে। ফলে সন্দেহজনক হাম-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা এবং নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

পরিসংখ্যানের এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, হাম উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করা প্রত্যেক ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ পরীক্ষার মাধ্যমে হাম হিসেবে নিশ্চিত নাও হতে পারে। বিভিন্ন জটিলতা বা অন্য রোগের কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সন্দেহজনক এবং নিশ্চিত—এই দুই শ্রেণিতে তথ্য আলাদাভাবে প্রকাশ করছে।

১৫ মার্চ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া চিত্রে দেখা যায়, দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা প্রায় দুই লাখের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সময়ে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজারের বেশি। গত ২৪ ঘণ্টার নতুন ১ হাজার ২৯৬ সন্দেহজনক রোগী এবং ৬০ নিশ্চিত রোগী সেই সামগ্রিক সংখ্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণ থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। শিশুদের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি বেশি হলেও বয়সভেদে অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারেন। জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং পরে শরীরে র‍্যাশ দেখা দেওয়া হাম সংক্রমণের পরিচিত লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে।

দেশে সন্দেহজনক রোগী ও হাম-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব বলছে, হাম পরিস্থিতি এখনো নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তৈরি করছে। একদিকে বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে নিশ্চিত হাম আক্রান্তদের মধ্যেও নতুন রোগী যুক্ত হচ্ছে। তাই রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখা জরুরি।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।