বিশ্বব্যাপী তরুণ প্রজন্মের মাঝে তুমুল জনপ্রিয় কে-পপ বয় ব্যান্ড ‘এনহাইপেন’ (ENHYPEN) তাদের ভক্তদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উন্মোচন করেছে নতুন মিনি অ্যালবাম ‘দ্য সিন : ব্লিস’ (THE SIN : BLISS)। ঠিক মধ্যরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসা এই অ্যালবামটি ব্যান্ডটির চলতি ‘দ্য সিন’ অ্যালবামের দ্বিতীয় কিস্তি এবং তাদের সার্বিক ডিসকোগ্রাফির অষ্টম মিনি অ্যালবাম। প্রকাশের পরপরই বৈশ্বিক মিউজিক চার্টগুলোতে অ্যালবামের গানগুলো ইতিবাচক সাড়া ফেলতে শুরু করেছে।
তবে এই অ্যালবামটির মাধ্যমে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা ঘটল। সম্প্রতি ব্যান্ডের অন্যতম মূল কণ্ঠশিল্পী হিসু (HEESEUNG) দল ছেড়ে একক সংগীতশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তাঁর এই প্রস্থানের পর ‘দ্য সিন : ব্লিস’ হলো ছয় সদস্যের এনহাইপেন-এর প্রথম আনুষ্ঠানিক মিউজিক প্রজেক্ট। বর্তমানে জ্যাক, জে, সংহুন, সনু, জংওন এবং নি-কি—এই ছয় প্রতিভাবান তরুণ সদস্যকে নিয়ে নতুন ছন্দে ও নতুন উদ্যমে সংগীত যাত্রা এগিয়ে নিচ্ছেন কে-পপের জনপ্রিয় এই ব্যান্ডটি।
২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থান বজায় রেখে ব্যান্ডের পরিধি আরও বাড়িয়েছে এনহাইপেন। সম্প্রতি তারা শেষ করেছে তাদের সংগীত জীবনের সবচেয়ে বড় বিশ্ব সফর ‘ব্ল্যাড সাগা’ (BLOOD SAGA)-এর ল্যাটিন আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্র পর্ব। এই সফরের সময় তারা ব্রাজিলেও পারফর্ম করার সুযোগ পান, যেখানে দেশটির অত্যন্ত জনপ্রিয় লেট-নাইট টেলিভিশন আলোচনা অনুষ্ঠান ‘দ্য নোইচি কম দানিলো জেনচিলি’-তে অংশ নিয়ে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেন গায়কেরা।
কেবল কনসার্টেই সীমাবদ্ধ ছিল না তাদের সফরসূচি। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্থান ক্যাম্পো মার্তে আয়োজিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উদযাপনের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানেও সরাসরি অংশ নিয়েছিল এই ব্যান্ড। পাশাপাশি স্যান ডিয়েগো কমিক-কন ২০২৬-এর মঞ্চে বিশ্বশ্রোতাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় ‘ডার্ক মুন’ (DARK MOON) নামক প্রজেক্টকে। এটি মূলত এনহাইপেনের কাল্পনিক ও সংগীত মহাবিশ্ব থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত তাদের মূল মিউজিক লেবেল ‘হাইব’ (HYBE)-এর একটি জনপ্রিয় অরিজিনাল স্টোরিলাইন।
গানের বাইরে সামাজিক সচেতনতামূলক কাজের সঙ্গেও নিজেদের যুক্ত রেখেছেন এনহাইপেন-এর তরুণ শিল্পীরা। গত ১৪ জুন ‘বিশ্ব রক্তদাতা দিবস’ উপলক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর বিশ্বব্যাপী সামাজিক সচেতনতা প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন তারা। ওইদিন ব্যান্ডের সদস্যরা নিজেরা রক্ত দেওয়ার পাশাপাশি তরুণদের রক্তদানে উৎসাহিত করতে তাঁদের বিপুল জনপ্রিয় সামাজিক প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে বৈশ্বিক ক্যাম্পেইনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। সংগীত ও সামাজিক দায়িত্বশীলতার এই অনবদ্য মিশ্রণে এনহাইপেনের নতুন যাত্রা আন্তর্জাতিকভাবে আলোড়ন তৈরি করেছে, যা বিস্তৃতভাবে কাভার করেছে আন্তর্জাতিক বিনোদনভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে।


