খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম
ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভায় পাওনা বিল পাওয়ার বিনিময়ে ১৫ শতাংশ ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় হাসিবুল হাসান আব্দুল্লাহ নামের এক ঠিকাদারকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির ও তাঁর সহযোগী মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে এ হামলা চালানোর দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে নগরকান্দা পৌরসভা কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার নিজস্ব কক্ষে নির্মম এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঠিকাদারকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঠিকাদার হাসিবুল হাসান জানান, তাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সৈয়দা জাহানারা এন্টারপ্রাইজ’-এর মাধ্যমে ২০২৩ সালে আইইউআইডিপি প্রকল্পের আওতায় নগরকান্দা পৌরসভার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর প্রায় আট মাস আগে প্রকল্পের বিল অনুমোদিত হলেও তা পরিশোধ না করে আটকে রাখা হয়। বিল ছাড়ের জন্য পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির দীর্ঘদিন ধরে মোট পাওনার ওপর ১৫ শতাংশ ঘুষ দাবি করে আসছিলেন। হয়রানি এড়াতে তিনি গত সোমবার (১০ আগস্ট) পাঁচ লাখ টাকা নগদে প্রদান করেন। কিন্তু এরপরও অতিরিক্ত আরও পাঁচ লাখ টাকা না দিলে বিলের ফাইল স্বাক্ষর করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়।
এরই জের ধরে বুধবার আটকে থাকা বিলের বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে যান ঠিকাদার হাসিবুল। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ও তাঁর সহযোগী মোসলেম উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে জিআই পাইপ দিয়ে এলোপাথাড়ি পেটাতে শুরু করেন। হামলার তোড়ে ঘটনাস্থলেই হাসিবুলের হাত ভেঙে যায় এবং তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম ইফতেখার আজাদ জানান, মারামারিতে আহত হয়ে এক ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। তাঁর শরীরে বিশেষ করে হাতে ফুলা জখম ও মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল। অবস্থা বিবেচনা করে তাঁকে এক্স-রে করানোর পরামর্শসহ দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে ঘুষ দাবি ও মারধরের ঘটনাটি পুরোপুরি বানোয়াট বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। তাঁর ভাষ্যমতে, ঠিকাদারের কাজ অসম্পূর্ণ এবং নিম্নমানের থাকায় নিয়ম অনুযায়ী বিল আটকানো হয়েছে। কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিল না দেওয়ার বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঠিকাদার নিজেই অফিসে এসে তাঁদের ওপর চড়াও হন এবং হামলার চেষ্টা চালান। জিআই পাইপ দিয়ে মারধরের অভিযোগ মিথ্যা বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, ঠিকাদারের বিল সংক্রান্ত বিষয়টি তিনি জানেন। কাজের কিছু জায়গায় অসঙ্গতি ও অসম্পূর্ণতা ধরা পড়ায় কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত অর্থ ছাড় না দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে বাকবিতণ্ডা বা মারামারির সুনির্দিষ্ট কারণ তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেননি। ঘটনার বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মন্তব্য