২০২৫ সালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোট ৬৪৫টি ঘটনা পুলিশের নজরে এসেছে। এর মধ্যে ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদান পাওয়া গেছে। এই তথ্য যাচাই করা হয়েছে ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (FIR), জেনারেল ডায়েরি (GD), চার্জশিট এবং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত তদন্ত অগ্রগতির রিপোর্টের ভিত্তিতে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এবং পুলিশ সংস্থাটি “অপরাধ দমনে স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”।
সাম্প্রদায়িক ও অ-সাম্প্রদায়িক ঘটনা
| শ্রেণি | মোট ঘটনা | প্রধান ধরন/বিস্তারিত |
|---|---|---|
| সাম্প্রদায়িক ঘটনা | ৭১ | মন্দির ভাঙচুর ৩৮, মন্দিরে চুরি ১, হত্যা ১, মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ৮, অন্যান্য (প্রতিমা ভাঙার হুমকি, ফেসবুক পোস্ট, আঙ্গিনায় ক্ষতি) ২৩ |
| অ-সাম্প্রদায়িক ঘটনা | ৫৭৪ | প্রতিবেশী বিরোধ ৫১, জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব ২৩, চুরি ১০৬, পূর্ব শত্রুতা ২৬, অস্বাভাবিক মৃত্যু ১৭২, ধর্ষণ ৫৮, অন্যান্য ১৩৮ |
পুলিশি ব্যবস্থা
| ঘটনার ধরন | মামলা সংখ্যা | গ্রেপ্তার | অন্যান্য ব্যবস্থা |
|---|---|---|---|
| সাম্প্রদায়িক | ৫০ | ৫০ | ২১ |
| অ-সাম্প্রদায়িক | ৩৯০ মামলা + ১৫৪ ইউডি মামলা | ৪৯৮ | ৩০ (অপহরণ, ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি ইত্যাদি) |
সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলোর মধ্যে প্রধানত ধর্মীয় উপাসনালয় ও প্রতিমা ভাঙচুর বা অবমাননার ঘটনা ছিল। অন্যদিকে, সংখ্যালঘু ব্যক্তি বা সম্পত্তিকে প্রভাবিত করে অধিকাংশ ঘটনা ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের বাইরে, বরং চুরি, জমি বিরোধ, প্রতিবেশী দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যৌন সহিংসতা এবং পূর্ব শত্রুতার কারণে ঘটেছে।
প্রেস উইং আরও জানিয়েছে, “সব ধরনের অপরাধই গুরুতর এবং জবাবদিহিতা দাবি করে। তবে উপাত্ত থেকে স্পষ্ট যে সংখ্যালঘু ভুক্তভোগীদের অধিকাংশ ঘটনা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের কারণে নয়, বরং সামাজিক ও অপরাধমূলক কারণে সংঘটিত।”
এছাড়া, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশে সহিংস অপরাধে প্রতিবছর প্রায় ৩,৫০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যা একটি গভীর সামাজিক উদ্বেগের বিষয়। সরকারের লক্ষ্য প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উপাসনালয়ের সুরক্ষা, গুজব প্রতিরোধ ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা।



