আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারত এবং পাকিস্তানের মুখোমুখি লড়াই মানেই কোটি কোটি সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা ও টানটান উত্তেজনা। ভূ-রাজনৈতিক ও সীমান্ত সংক্রান্ত টানাপোড়েনের কারণে বছরের পর বছর ধরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ থাকায় এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দ্বৈরথ উপভোগের জন্য কেবল আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের মতো বড় টুর্নামেন্টগুলোর দিকেই তাকিয়ে থাকতে হয় ক্রিকেটবিশ্বকে। সমর্থকদের এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বহুল প্রতীক্ষিত দ্বৈরথের তারিখ চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে আগামী ২০২৭ ক্রিকেট বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ খসড়া সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১০ অক্টোবর মাঠে গড়াবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী হাইভোল্টেজ ম্যাচটি। এর আগে ৭ অক্টোবর গত আসরের দুই ফাইনালিস্ট ভারত ও বিশ্বজয়ী অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্য দিয়েই পর্দা উঠবে টুর্নামেন্টের। ১ মাসব্যাপী লড়াইয়ের পর আগামী ২১ নভেম্বর ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে সাঙ্গ হবে এই মেগা আসর।
আইসিসির ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিযোগিতার মূল পর্বের ১২টি দলকে দুটি প্রাথমিক গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ‘গ্রুপ এ’-তে রয়েছে এশিয়ান জায়ান্ট ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান; তাদের সঙ্গী হয়েছে বিশ্বশক্তি অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার জিম্বাবুয়ে এবং বাছাইপর্ব উৎরে আসা একটি দল। অন্যদিকে ‘গ্রুপ বি’-তে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়বে বাংলাদেশ। তাদের সাথে একই গ্রুপে স্থান পেয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা, সাবেক চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড এবং বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা দ্বিতীয় দলটি।
এবারের বিশ্বকাপের ফরম্যাটে বেশ কিছু নতুন মাত্রা যোগ করা হয়েছে। প্রথম রাউন্ডে যোগ্যতা অর্জনকারী ১৪টি দেশের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে থাকা ৩টি দল নিয়ে শুরু হবে ‘সুপার সিরিজ’। রাউন্ড রবিন ফরম্যাটের এই লড়াইয়ে সেরা হওয়া দলটি টিকিট পাবে দ্বিতীয় রাউন্ডের। দ্বিতীয় রাউন্ড বা মূল গ্রুপ পর্বে মোট ৩০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যা চলবে ৭ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। দুই গ্রুপের শীর্ষ তিনটি করে মোট ৬টি দল এবং সার্বিক বিচারে সেরা চতুর্থ দলটি মিলে মোট ৭টি দেশ প্রবেশ করবে তৃতীয় রাউন্ড অর্থাৎ ‘সুপার ৭’ পর্বে। ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ‘সুপার ৭’ পর্বের রাউন্ড রবিন লিগে প্রতিটি দল বাকি ৬টি দলের মুখোমুখি হবে। ভারত ও পাকিস্তান যদি নিজ নিজ গ্রুপ থেকে যোগ্যতা অর্জন করতে পারে, তবে এই পর্বেও ভক্তরা আবারও দেখতে পাবেন তাদের দ্বৈরথ।
সুবিধার্থে এবং কাঠামোগত সমতা বজায় রাখতে আগেই শীর্ষ ৭টি দলকে র্যাঙ্কিং অনুযায়ী ‘সুপার ৭’ সিডিং দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারত (এ১), অস্ট্রেলিয়া (এ২), পাকিস্তান (এ৩), ইংল্যান্ড (বি৪), নিউজিল্যান্ড (বি১), দক্ষিণ আফ্রিকা (বি২) এবং শ্রীলঙ্কা (বি৩)। যদি সিডিং পাওয়া কোনো দল মূল গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে না পারে, তবে তাদের জায়গায় উঠে আসা দলই সেই সিডিং পজিশনটি পেয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, শ্রীলঙ্কা ব্যর্থ হয়ে যদি বাংলাদেশ ‘সুপার ৭’-এ ওঠে, তবে টাইগাররা ‘বি৩’ পজিশন নিয়ে লড়াই করবে।
‘সুপার ৭’ পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল চতুর্থ দলের মুখোমুখি হবে প্রথম সেমিফাইনালে। অন্য সেমিফাইনালে লড়বে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা দুটি দল। আগামী ১৭ ও ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচ দুটি। বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে ভারতকে শুরুর দিকের বাছাইপর্ব খেলতে হচ্ছে না। অধিনায়ক শুভমন গিলের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল সরাসরি মূল গ্রুপ পর্ব থেকে তাদের যাত্রা শুরু করবে। কোনো দল ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছালে টুর্নামেন্টে সর্বমোট ১৩টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।


