বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েছেন তরুণ ওপেনার জাওয়াদ আবরার। জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) মাত্র ২২ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে দ্রুততম ফিফটির নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে অক্ষত থাকা এই রেকর্ড নিজের করে নিলেও অল্পের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক এই ক্রিকেটারের।
চলমান জাতীয় ক্রিকেট লিগে রাজশাহী বিভাগের বিপক্ষে বরিশাল বিভাগের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন জাওয়াদ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষের বোলারদের চাপে রাখেন তিনি। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাত্র ২২ বলে পৌঁছে যান ব্যক্তিগত ৫০ রানে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্রুততম অর্ধশতকের নতুন রেকর্ড গড়েন এই তরুণ ব্যাটার।
এর আগে রেকর্ডটি ছিল হার্ডহিটার অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমানের দখলে। ২০১৪-১৫ মৌসুমের জাতীয় ক্রিকেট লিগে মাত্র ২৪ বলে ফিফটি করেছিলেন তিনি। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর কোনো বাংলাদেশি ব্যাটার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার সেই কীর্তি ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। অবশেষে জিয়াউরের চেয়ে দুই বল কম খেলে নতুন রেকর্ড গড়লেন জাওয়াদ।
তবে শুধু দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েই থেমে থাকেননি তিনি। অর্ধশতক পূর্ণ করার পরও দলের সংগ্রহ বাড়াতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান। দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি ইনিংসকে বড় করার চেষ্টা করেন এই ওপেনার। একপর্যায়ে সেঞ্চুরির কাছাকাছিও পৌঁছে যান তিনি। কিন্তু ব্যক্তিগত ৯১ রানে থেমে যায় তার ইনিংস।
৯৪ বল মোকাবিলা করে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৯১ রান করেন জাওয়াদ। শতকের জন্য প্রয়োজন ছিল আর মাত্র ৯ রান। শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্কের মাইলফলক স্পর্শ করতে না পারলেও তার ইনিংসটি বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের রেকর্ডবইয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাধারণত ধৈর্য ধরে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ইনিংস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেখানে মাত্র ২২ বলে অর্ধশতক তুলে নেওয়া নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী এক অর্জন। জাওয়াদের এই ইনিংস প্রমাণ করেছে, দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দেওয়া সম্ভব।
ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাশাপাশি দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তরুণ এই ব্যাটার। রাজশাহীর বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে বরিশাল বিভাগের ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে তার ৯১ রানের ইনিংসের।
ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৪৯ রান সংগ্রহ করেছে বরিশাল বিভাগ। এতে রাজশাহীর বিপক্ষে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ২১ রানে। জাওয়াদের দ্রুত রান তোলার কারণে প্রতিপক্ষের সংগ্রহ পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে বরিশাল।
তবে ২১ রানের লিড নিয়ে ম্যাচে বড় সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে বরিশালের বাকি ব্যাটাররা কতটা রান যোগ করতে পারেন, সেটিই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে জাওয়াদ আবরারের। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দেওয়ার পর এবার জাতীয় ক্রিকেট লিগেও নজরকাড়া পারফরম্যান্স উপহার দিলেন তিনি। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের একটি রেকর্ড ভেঙে নিজের প্রতিভার নতুন প্রমাণ রাখলেন এই ওপেনার।
সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৯ রান দূরে থেমে যাওয়ার আক্ষেপ থাকলেও জাওয়াদের জন্য ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ, তার ব্যাট থেকেই এসেছে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্রুততম অর্ধশতকের নতুন রেকর্ড।
জিয়াউর রহমানের ২৪ বলের রেকর্ড ভেঙে ২২ বলে ফিফটি করার এই অর্জন জাওয়াদের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক। একই সঙ্গে জাতীয় ক্রিকেট লিগে তরুণ ক্রিকেটারদের সামর্থ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তার এই ইনিংস বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।


