দেশে মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কারও প্রাণহানি না ঘটলেও আক্রান্ত হয়ে কিংবা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে রেকর্ড এক হাজার ৬১ জন শিশু।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্য তথ্য বিভাগ থেকে প্রকাশিত নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই আশঙ্কাজনক চিত্র তুলে ধরা হয়। এই হিসাবটি সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরে দেশজুড়ে শিশু স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক আঘাত হেনেছে এই ভাইরাসবাহিত রোগটি। বছরজুড়ে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১৮ জনে। চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়ে মারা গেছে ৯৯ জন শিশু। অন্যদিকে, হামের স্পষ্ট উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও ল্যাব পরীক্ষার আগে কিংবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে আরও ৮১৯ জন শিশু।
এর আগের দিন, অর্থাৎ সোমবারের চিত্রেও মৃত্যুর খবর ছিল বেশ উদ্বেগজনক। ওই ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারায় মোট সাতজন শিশু। এর মধ্যে কেবল ঢাকা বিভাগেই প্রাণ হারিয়েছিল পাঁচজন। এছাড়া বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসবাহিত রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসের সাহায্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত শিশুরা এই রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও জটিলতা বহুগুণ বেড়ে যায়। এর ফলে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনসেফালাইটিস এবং তীব্র ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা দেয়, যা শেষ পর্যন্ত শিশুর অকালমৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
হাসপাতালগুলোতে দৈনিক সহস্রাধিক শিশুর ভর্তি হওয়ার ঘটনা স্পষ্ট করে যে পরিস্থিতি কতটা গুরুতর। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান জোরদার করা এবং অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে শিশুদের শরীরে জ্বর, গায়ে লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

