২৮ সেপ্টেম্বরের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি, বৈদেশিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয়, শিক্ষা, চিকিৎসা ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সরাসরি যুক্ত। ফলে প্রতিদিন ডলার, ইউরো, পাউন্ডসহ বিভিন্ন মুদ্রার বিপরীতে টাকার দর ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষেরও আগ্রহের বিষয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, আন্তব্যাংক বাজারে মার্কিন ডলারের সর্বনিম্ন দর ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ দর ১২২ টাকা ৮০ পয়সা। ওই দিনের ভারিত গড় দর বা WAR ছিল ১২২ টাকা ৭৬ পয়সা। একই দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্পট রেফারেন্স রেট ছিল ১২২ টাকা ৭৯৫৫ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ক্রস-রেট অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর ইউরোর দর ১৩৯ টাকা ৮২ পয়সা থেকে ১৩৯ টাকা ৮৯ পয়সার মধ্যে ছিল। ব্রিটিশ পাউন্ডের দর ছিল ১৬২ টাকা ৬৬ পয়সা থেকে ১৬২ টাকা ৮০ পয়সা। অস্ট্রেলিয়ান ও কানাডিয়ান ডলারের দর ছিল যথাক্রমে প্রায় ৮৬ টাকা ২১ পয়সা এবং ৮৬ টাকা ৭৭ পয়সা।

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার দর:

মুদ্রা বাংলাদেশি টাকায় দর
ইউএস ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা
ইউরো ১৩৯ টাকা ৮২ পয়সা
পাউন্ড ১৬২ টাকা ৬৫ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার ৮৬ টাকা ৭৭ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮৬ টাকা ২০ পয়সা
চায়নিজ ইয়েন ১৮ টাকা ২৫ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার ৯৬ টাকা ০৪ পয়সা
ভারতীয় রুপি ১ টাকা ২৮ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ৩০ টাকা ১৬ পয়সা
সৌদি রিয়াল ৩২ টাকা ৭৯ পয়সা
কাতারি রিয়াল ৩৩ টাকা ৭৬ পয়সা
কুয়েতি দিনার ৩৯৮ টাকা ৮৮ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম ৩৩ টাকা ৫৪ পয়সা

তবে বৈদেশিক মুদ্রার দর একক কোনো সংখ্যা নয়। ব্যাংক, লেনদেনের ধরন, মুদ্রা কেনা বা বিক্রি—এসবের ওপর প্রকৃত দর কিছুটা আলাদা হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকও জানিয়েছে, আন্তব্যাংক বাজারের ডলার-টাকার দর দেশীয় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।

সাম্প্রতিক বাজারচিত্রেও এই ওঠানামার প্রতিফলন দেখা গেছে। ২৩ সেপ্টেম্বর আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১২৩ টাকা ২৫ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ১২৩ টাকা ১৫ পয়সা; ভারিত গড় দর ছিল ১২৩ টাকা ২২ পয়সা। এর পর ২৮ সেপ্টেম্বর সর্বনিম্ন আন্তব্যাংক দর ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় নেমেছে।

বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে বাজারভিত্তিক সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে বিনিময় হার আরও নমনীয় করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে উঠে এসেছে। আইএমএফের ২০২৬ সালের বাংলাদেশসংক্রান্ত মূল্যায়নে নতুন বিনিময় হার ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং বাজারে দর নির্ধারণে অধিক নমনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ পরিস্থিতিতে প্রবাসী আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই মাসে দেশে ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ছিল ৩৬.৪২ বিলিয়ন ডলার; আগস্ট শেষে তা বেড়ে ৩৭.৩৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

ডলারের দর স্থিতিশীল থাকলে আমদানিকারকদের পণ্য আমদানির খরচ হিসাব করা তুলনামূলক সহজ হয়। একইভাবে বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা বা ভ্রমণের জন্য মুদ্রা কিনতে যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও বিনিময় হার সরাসরি ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। আবার রপ্তানিকারক ও প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়মূল্যের পরিবর্তনের প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।

তবে এখানে প্রকাশিত হারকে দিনের চূড়ান্ত গ্রাহকদর হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ব্যাংক ও অনুমোদিত ডিলারদের লেনদেনে মুদ্রা কেনা-বেচার দর আলাদা হতে পারে এবং বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে তা দিনের মধ্যেই পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বড় অঙ্কের বৈদেশিক লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ দর যাচাই করা জরুরি।

বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বাজার পরিস্থিতি ও লেনদেনের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।