বয়স কেবল একটি সংখ্যা—ক্রিকেট মাঠে এই পুরোনো প্রবাদটিকে আবারও সত্যি প্রমাণ করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ষীয়ান লেগ-স্পিনার ইমরান তাহির। ৪৭ বছর বয়সে পা রেখেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বল হাতে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আজ প্রভিডেন্সে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) ম্যাচে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিরুদ্ধে বল হাতে গড়েছেন নতুন ইতিহাস। জয়ের নায়ক হয়ে তুলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক ও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সাফল্য।
ম্যাচে নিজের ৪ ওভারের কোটায় মাত্র ১৭ রান খরচ করে ৫টি উইকেট তুলে নেন এই লেগ-স্পিনার। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটিই তাহিরের ব্যক্তিগত সেরা বোলিং রেকর্ড। ৪৭ বছর বয়সে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে সর্বকনিষ্ঠ বা বর্ষীয়ান বোলার হিসেবে এমন চোখধাঁধানো ফাইফার অর্জন বিরল ঘটনা। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, এই বয়সেও মাঠের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজের সেরাটা দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে তাঁর ছেলেই।
সংক্ষিপ্ত সংস্করণের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি ইমরান তাহিরের ষষ্ঠবারের মতো ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি। এই অসাধারণ অর্জনের ফলে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিকবার ৫ উইকেট নেওয়া বোলাদের তালিকায় তিনি এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। এই তালিকায় তাঁর ওপরে রয়েছেন কেবল নামিবিয়ার অলরাউন্ডার ডেভিড ভিসা, যিনি সর্বোচ্চ ৭ বার ৫ উইকেট নেওয়ার নজির গড়েছেন। অন্যদিকে ৫ বার করে ফাইফার নিয়ে যৌথভাবে তিন নম্বরে রয়েছেন সাকিব আল হাসান, রশিদ খান, শাহিন শাহ আফ্রিদি, লাসিথ মালিঙ্গা এবং ভুবনেশ্বর কুমার।
একই সাথে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বকালের সর্বাধিক উইকেটশিকারিদের তালিকাতেও নিজের অবস্থান মজবুত করছেন তাহির। সব ধরনের টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে তাঁর মোট উইকেট সংখ্যা এখন ৫৮৯টি, যা তাঁকে বিশ্বের চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলারের মর্যাদায় বসিয়েছে। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন রশিদ খান (৭৩৬ উইকেট), দ্বিতীয় স্থানে সুনীল নারাইন (৬৫৭ উইকেট) এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ডোয়াইন ব্রাভো (৬৩১ উইকেট)।
৫৮৯টি উইকেটের মধ্যে সিবিএল বা ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগেই সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছেন তাহির, যেখানে তাঁর সংগৃহীত উইকেটের সংখ্যা ১৪২টি। চলতি সিবিএল মৌসুমেও অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ইতোমধ্যে ১২টি উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, সাত বছরেরও বেশি সময় আগে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতি টেনেছিলেন এই ঘূর্ণিজাদুকর। প্রোটিয়াদের হয়ে তিনি ২০টি টেস্ট, ১০৭টি ওয়ানডে এবং ৩৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং অদম্য ফিটনেস এখনো ক্রিকেটপ্রেমীদের মুগ্ধ করে চলেছে।


