খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ১:৬ পিএম
বিশ্বকাপের পরিধি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ২০২৬ আসরে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পর এবার ২০৩০ সালের শতবর্ষের বিশ্বকাপে ৬৪টি দল অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন গবেষণা সংস্থাকে দিয়ে বিশদ মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা একটি নথিতে বলা হয়েছে, ৪৮ দল থেকে ৬৪ দলে বিশ্বকাপ সম্প্রসারণ করা হলে টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতার মান, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা, আয়োজনের সক্ষমতা এবং সামগ্রিক পরিচালনাগত কাঠামোর ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা বিশ্লেষণ করবে স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নযোগ্য কি না, সেটিও মূল্যায়ন করা হবে।
২০২৬ বিশ্বকাপ ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের একটি ধাপ। দীর্ঘদিন ৩২ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়। এর ফলে গ্রুপ পর্বের কাঠামোতে পরিবর্তন আসে, ম্যাচের সংখ্যাও বাড়ে এবং নকআউট পর্বে অতিরিক্ত একটি ধাপ যুক্ত হয়। এই সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা পুরোপুরি মূল্যায়নের আগেই আরও বড় পরিসরের বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের ধারণাটি নতুন নয়। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল গত বছর আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব ফিফার কাছে তোলে। তাদের যুক্তি ছিল, ২০৩০ সালে বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আরও বেশি দেশকে এই ঐতিহাসিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে বিশ্ব ফুটবলের বিস্তার ঘটবে এবং বিভিন্ন অঞ্চলের উদীয়মান দলগুলোও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ পাবে।
তবে সম্ভাব্য সুবিধার পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে এসেছে। গবেষণায় মূল্যায়ন করা হবে, দলসংখ্যা বাড়ালে প্রতিযোগিতার মানে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কি না, আন্তর্জাতিক ফুটবল সূচি আরও চাপের মুখে পড়ে কি না, আয়োজক দেশগুলোর অবকাঠামো ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হয় কি না এবং সম্প্রসারণের ফলে বাজার, সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে।
ফিফার নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, গবেষণা কেবল অতিরিক্ত রাজস্ব বা আর্থিক সুবিধার হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক লাভ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কি না এবং তা বিশ্ব ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়নে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, সেটিও বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হবে।
ফিফার সদরদপ্তর সুইজারল্যান্ডের জুরিখে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গবেষণার দায়িত্ব কোন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান পাবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামী ১৪ আগস্ট। নির্বাচিত সংস্থাকে এরপর মাত্র চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ সম্পন্ন করার জন্য। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, তাদের ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
গবেষণার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতে ২০৩০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৬৪-এ উন্নীত করার বিষয়ে ফিফা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ চূড়ান্ত হয়নি; বরং সম্ভাব্য সুফল, চ্যালেঞ্জ এবং বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াই শুরু হয়েছে।
মন্তব্য