স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ওই নারীকে রেললাইনের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। পরে সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা যশোরগামী আন্তঃনগর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঘটনাস্থল অতিক্রম করার সময় তিনি ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর নারীর মরদেহের বিভিন্ন অংশ রেললাইনের পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে ওই নারী কীভাবে রেললাইনে বসেছিলেন কিংবা তাঁর মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ডিএন টেক্সটাইল রেলগেটে দায়িত্বে থাকা গেটম্যান পরশ ইসলাম জানান, ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ওই নারীর শরীর সাত থেকে আট টুকরায় বিভক্ত হয়ে রেললাইনের পাশে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
নওয়াপাড়া রেলস্টেশনের মাস্টার মিন্টু কুমার রায় দুর্ঘটনায় এক নারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর নাম-পরিচয় কিংবা স্থায়ী ঠিকানা জানা সম্ভব হয়নি।
খুলনা রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। শরীর খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যাওয়ায় মুখমণ্ডল দেখে ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। এ কারণে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার উদ্দেশ্যে আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে।
পুলিশের আশা, বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে নিহত নারীর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। পরিচয় শনাক্ত হলে তাঁর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও সহজ হবে।
এদিকে, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কাজও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।
রেললাইনে চলাচল ও অবস্থানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে এ দুর্ঘটনা। তবে ওই নারী দুর্ঘটনাবশত রেললাইনে ছিলেন, নাকি অন্য কোনো কারণে সেখানে অবস্থান করছিলেন, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তাঁর পরিচয় ও মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পুলিশের তদন্ত এবং বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের পর জানা যেতে পারে।


