খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:১১ পিএম
ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো মুহূর্তে সামরিক অভিযান চালাতে পারে, এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামরিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হওয়ায় কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময়ই সংঘাত শুরু হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে বিমান ও নৌবাহিনী মোতায়েন, যেসব প্রধান অবস্থান নিচে দেওয়া হলো:
| সামরিক উপাদান | অবস্থান | বিশেষ তথ্য |
|---|---|---|
| এ-৩ সেন্ট্রি এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল বিমান | মধ্যপ্রাচ্য | হামলার জন্য নজরদারি ও কমান্ড নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ব্যবহৃত |
| আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ | আরব সাগর | বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ অন্তর্ভুক্ত |
| যুদ্ধবিমান | মধ্যপ্রাচ্য | ৫০টিরও বেশি অতিরিক্ত বিমান মোতায়েন |
| সামরিক কর্মী ও কর্মকর্তা | অঞ্চল | সম্ভাব্য পাল্টা হামলা এড়াতে কিছু কর্মকর্তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে |
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে হামলা শুরু হবে, তবে তিনি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যেই লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
ইরানও সামরিকভাবে সতর্ক। তারা রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া চালাচ্ছে ও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে। ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বার্তা দিয়েছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধংদেহি তৎপরতা এই অঞ্চলের জন্য বিপর্যয়কর এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।”
যুক্তরাজ্য মার্কিন বাহিনীকে তাদের বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করতে অনুমোদন দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের কারণে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু কর্মকর্তার মধ্যে ইরানের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণের সমর্থনের কথা বলা হলেও, কূটনীতিকরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত রক্তক্ষয়ী হবে এবং আরও দেশ এতে জড়িয়ে পড়তে পারে।
ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, ইরান নিজের মূল অবস্থান থেকে সরে আসতে প্রস্তুত নয়। তাদের পরিকল্পনা হলো আলোচনা বিলম্বিত করা এবং সময় কিনে নেওয়া, যাতে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলা করা যায়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ধৈর্য সীমিত হওয়ায় এই পরিস্থিতি সামরিক উত্তেজনায় রূপ নিচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক স্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করছেন, নিয়ন্ত্রণহীন চাপ প্রয়োগের ফলাফল বহুমুখী ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত হতে পারে।
মন্তব্য