খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বগুড়া-৬ (সদর) আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনে বিজয়ী হওয়ার পর সংবিধানগত বাধ্যবাধকতার কারণে শপথের আগের দিন একটি আসন ছেড়ে দেন তিনি। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই আসনে এখন উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশন এখনও তফসিল ঘোষণা না করলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।
বগুড়া-৬ দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে দলটির প্রার্থীরা ধারাবাহিকভাবে বিজয়ী হন। বিশেষ করে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সর্বশেষ নির্বাচনে একই আসনে বড় ব্যবধানে জয় পান তারেক রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বগুড়া-৬ কেবল একটি সংসদীয় আসন নয়; এটি বিএনপির ঐতিহাসিক ও আবেগঘন রাজনৈতিক ভিত্তির প্রতীক।
| নির্বাচন বছর | বিজয়ী প্রার্থী | দল | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ১৯৯১ | বিএনপি প্রার্থী | বিএনপি | বিপুল ভোটে জয় |
| ১৯৯৬ | খালেদা জিয়া | বিএনপি | ধানের শীষে বড় জয় |
| ২০০১ | খালেদা জিয়া | বিএনপি | পুনরায় বিজয় |
| ২০০৮ | খালেদা জিয়া | বিএনপি | ধারাবাহিক সাফল্য |
| ২০২৬ | তারেক রহমান | বিএনপি | ত্রয়োদশ সংসদে জয় |
এখন প্রশ্ন—উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হবেন? দলীয় সূত্রে জানা যায়, সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় একাধিক নাম ঘুরপাক খাচ্ছে। কেউ কেউ তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান বা তাঁর কন্যা জাইমা রহমানকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি তুলেছেন। জিয়া পরিবারের উত্তরাধিকার ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য বজায় রাখার যুক্তি তুলে ধরছেন তাঁদের সমর্থকেরা।
অন্যদিকে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় নেতাদের মধ্যেও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র রেজাউল করিম (বাদশা), সাবেক সভাপতি একেএম মাহবুবুর রহমান, সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, বগুড়া-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর (পাভেল) উল্লেখযোগ্য।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর যথাসময়ে দলের হাইকমান্ড প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসন ঐতিহাসিকভাবে জিয়া পরিবারের শক্ত ঘাঁটি, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপনির্বাচন শুধু একটি শূন্য আসন পূরণের বিষয় নয়; এটি হবে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং স্থানীয় নেতৃত্বের ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তাই তফসিল ঘোষণার আগেই বগুড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ও জল্পনা-কল্পনা ক্রমেই বাড়ছে।