কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আটক এক ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার টইটং ইউনিয়নের গুদিকাটা এলাকার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে। অভিযোগ অনুযায়ী, মো. কাইছার নামের এক ব্যক্তিকে একটি দোকান থেকে আটক করেন পেকুয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক মো. মোরশেদ আলম। আটক করার সময় তার মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন অ্যাপস ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায় বলে জানা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রথমে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দীর্ঘ দরকষাকষির পর বিকাশের মাধ্যমে ১৬ হাজার টাকা গ্রহণ করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার ধারাবাহিক বিবরণ
নিচে ঘটনাটির সময়ক্রম তুলে ধরা হলো—
| সময়/পর্যায় |
ঘটনা |
| সোমবার সন্ধ্যা |
টইটং ইউনিয়নের গুদিকাটা এলাকায় অভিযান পরিচালনা |
| প্রথম ধাপ |
মো. কাইছারকে দোকান থেকে আটক করা |
| দ্বিতীয় ধাপ |
মোবাইলে অনলাইন জুয়ার লেনদেনের তথ্য পাওয়া |
| তৃতীয় ধাপ |
অর্থ দাবি ও দরকষাকষি শুরু |
| চূড়ান্ত ধাপ |
বিকাশের মাধ্যমে ১৬ হাজার টাকা গ্রহণ করে ছেড়ে দেওয়া |
অভিযোগ ও বক্তব্য
ভুক্তভোগী মো. কাইছার দাবি করেন, পাশের এলাকায় আরেকজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালায়। ওই আসামি পালিয়ে গেলে তার মোবাইল ফোন হঠাৎ নিয়ে নেওয়া হয়। পরে মোবাইলে জুয়ার লেনদেন দেখতে পেয়ে অর্থ দাবি করা হয় বলে তিনি জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে স্থানীয় একটি দোকানের মাধ্যমে বিকাশে টাকা পাঠিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সহকারী উপপরিদর্শক মো. মোরশেদ আলম প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে পরে যোগাযোগের এক পর্যায়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে ভিন্নভাবে মন্তব্য করেন এবং অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার কথা বলেন। পরবর্তীতে যোগাযোগের মাধ্যমে অভিযোগের কিছু অংশ স্বীকার করার কথাও জানা যায়, যদিও তার পূর্ণ অবস্থান স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য দেননি।
জনমনে প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে কঠোর অভিযান প্রয়োজন, আবার অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাটি প্রশাসনিক পর্যায়ে তদন্তের দাবি উঠেছে স্থানীয়ভাবে।
এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।