খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দেশের সব পরীক্ষা কেন্দ্রকে কঠোর নজরদারির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রকে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি (ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন) ক্যামেরার আওতাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এই আদেশটিকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ বলে উল্লেখ করেছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য দেশের সকল পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানুর স্বাক্ষর করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনাটি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রগুলোর সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরীক্ষা কার্যক্রম নিয়মিতভাবে তদারকি করার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। তবে শুধু ক্যামেরা স্থাপন করলেই হবে না, বরং কেন্দ্রগুলোর সিসিটিভি ব্যবস্থার সার্বিক কার্যক্রম বোর্ড কর্তৃক নিয়মিত ও সরাসরি পর্যবেক্ষণের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ডিভিআর (ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার) এবং এনভিআর (নেটওয়ার্ক ভিডিও রেকর্ডার)-এর সঙ্গে সার্বক্ষণিক ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে বোর্ড কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় যেকোনো কেন্দ্রের পরীক্ষা পরিস্থিতি সরাসরি তদারকি করতে পারবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোকে তাদের সিসিটিভি ক্যামেরার অ্যাক্সেস বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় সকল কারিগরি তথ্য আগামী ২১ জুনের মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে। কেন্দ্রগুলোকে যেসকল নির্দিষ্ট তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে তা হলো:
পরীক্ষা কেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরার অনলাইন আইডি।
ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ দেখার জন্য প্রয়োজনীয় গোপন পাসওয়ার্ড।
সিসিটিভি ক্যামেরার নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের নাম।
সংশ্লিষ্ট ডিভিআর বা এনভিআর ডিভাইসের ইউনিক সিরিয়াল নম্বর।
ডিভাইসের মডেল ও ইন্টারনেট সংযোগ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিবরণ।
এই সকল তথ্য আগামী ২১ জুনের মধ্যে dhakaboardcontroller@gmail.com এই সুনির্দিষ্ট ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো তথ্য গ্রহণ করা হবে না এবং কোনো কেন্দ্র তথ্য পাঠাতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ড থেকে তথ্য প্রেরণের ক্ষেত্রে ভুলভ্রান্তি এড়াতে একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট বা নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রগুলোকে ই-মেইল পাঠানোর সময় ‘বিষয়’ বা সাবজেক্ট লাইনে (Subject Line) আবশ্যিকভাবে ‘CCTV EIIN Number’ লিখতে হবে। বোর্ডের পক্ষ থেকে উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। যেমন—কোনো প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন (EIIN) নম্বর যদি ৮৮৮৮৮৮ হয়, তবে ই-মেইলের সাবজেক্টে লিখতে হবে ‘CCTV 888888’। এখানে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বা পরীক্ষা কেন্দ্রকে অবশ্যই নিজেদের নিজস্ব সঠিক ইআইআইএন নম্বরটি ব্যবহার করতে হবে। সঠিক ফরম্যাট না মেনে ই-মেইল পাঠালে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা শনাক্তকরণে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে বোর্ড সূত্রে জানানো হয়েছে।
আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বোর্ডগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সংস্কারের চেষ্টা করছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ, ভুয়া পরীক্ষার্থী সনাক্তকরণ এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করতেই এই ডিজিটাল নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ব্র্যান্ড ও সিরিয়াল নম্বর সংগ্রহের মাধ্যমে প্রতিটি কেন্দ্রের কারিগরি সক্ষমতা যাচাই করা হবে। এর ফলে পরীক্ষা চলাকালীন কোনো কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে বা সিসিটিভি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এই নির্দেশনাটি অত্যন্ত জরুরি হিসেবে বিবেচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছে।