খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর আদাবরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২৪ বছর বয়সী এক তরুণী মেকআপ আর্টিস্টকে চারদিন অবরুদ্ধ রেখে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার কথিত প্রেমিক ফটোগ্রাফারের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অভিযুক্ত ফটোগ্রাফার ও তার মা-বাবার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের পর বিষয়টি পুলিশ গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।
সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর বিচারক মো. মনিরুজ্জামান মামলার আবেদনটি গ্রহণ করেন। ভুক্তভোগী তরুণীর বড় বোন রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে ট্রাইব্যুনালে এ মামলা করেন। আদালত বাদীর বিস্তারিত জবানবন্দি রেকর্ড শেষে অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা করে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডিবি পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে গেন্ডারিয়া ও আদাবর এলাকায় কর্মরত ফটোগ্রাফার নামিন আশরাফ মনিকে (৩৭)। এ ছাড়া ঘটনায় সহায়তাকারী ও হুমকিদাতা হিসেবে তার বাবা আশরাফউদ্দিন ও মা শাহনাজ বেগমকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার আর্জি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী সাদিয়া ইয়াসফিয়া (২৪) পেশায় একজন মেকআপ আর্টিস্ট ছিলেন। ২০২৪ সালের গোড়ার দিকে একটি ফ্যাশন ও মডেলিং শুটে অংশ নেওয়ার সময় ফটোগ্রাফার নামিন আশরাফ মনির সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। পরবর্তীতে কাজের সূত্রে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ও দেখাশোনা হতো, যা একপর্যায়ে সুগভীর ভালোবাসার সম্পর্কে পরিণত হয়। দুই পরিবারের সদস্যরাই তাদের এই প্রণয়ের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
সম্পর্ককে পরিণতি দিতে গত ৬ জুন সাদিয়ার বড় ভাই ও বড় বোন সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা বিয়ের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নিয়ে নামিনের গেন্ডারিয়ার ঢালকানগর গলির বাসায় যান। তবে নামিনের মা-বাবা সাদিয়ার পরিবারকে চূড়ান্তভাবে অপমান করেন এবং বিয়ের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন। এমনকি এ নিয়ে আর কোনো এগোনোর চেষ্টা করলে তাদের মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও তারা হুমকি দেন।
পরিবারের অস্বীকৃতি সত্ত্বেও আসামি নামিন কৌশলে সাদিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। গত ১০ জুন রাতে নামিন সাদিয়াকে আদাবরের শেখেরটেক ১২ নম্বর রোডের একটি বহুতল ভবনের দুই তলায় অবস্থিত তার নিজস্ব ফটো স্টুডিও ফ্ল্যাটে ডেকে নেন। সেখানে নিয়ে সাদিয়ার ফোন থেকে পরিবারের কাছে বার্তা দেওয়ানো হয় যে, তিনি তার এক বান্ধবীর বাসায় অবস্থান করছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১০ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত চারদিন সাদিয়াকে ওই স্টুডিও ফ্ল্যাটে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন ও অনবরত ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে ১৪ জুন সাদিয়াকে হত্যা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামি নামিন নিজের অপরাধ ঢাকতে ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা চালান এবং বিভিন্ন স্থানে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ছড়াতে থাকেন। তবে পুলিশি সুরতাল প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে মামলার বাদী জানান, নিহতের মরদেহের বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশ বর্তমানে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ, ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা এবং আসামিদের সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে।