আজমেরী হক বাঁধনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তদন্তে ইতালির ভেনিস পুলিশ ও সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরে ১৬ পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ-রেফারেল।

লন্ডন, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে ঘিরে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ, হলি আর্টিজান হামলার সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগ, শেনজেন ভিসা আবেদনে তথ্য গোপন বা অসত্য তথ্য দেওয়ার আশঙ্কা, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ, আর্থিক ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ এবং অতীতের পারিবারিক সহিংসতা ও নির্যাতনের অভিযোগসহ একাধিক গুরুতর বিষয় যাচাই ও তদন্তের অনুরোধ জানিয়ে ইতালির সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা ও বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে ১৬ পৃষ্ঠার একটি লিখিত অভিযোগ-রেফারেল পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ-রেফারেলটি সরাসরি ভেনিস পুলিশ সদর দপ্তর, কোয়েস্তুরা দি ভেনেজিয়া-এর বিশেষ তদন্ত শাখা ডিগোস-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে পাঠানো হয়েছে। একই নথির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে ভেনিস ট্রাইব্যুনালের অধীন সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর, প্রোকুরা দেলা রিপুব্লিকা প্রেসো ইল ত্রিবুনালে দি ভেনেজিয়া-কে। নথিতে ভেনিস পুলিশের ঠিকানা Sestiere di Santa Croce, 500, 30135 Venezia, Italy এবং প্রসিকিউটর দপ্তরের ঠিকানা Santa Croce n. 430, P.le Roma, 30135 Venezia, Italy উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগটি দাখিল করেছেন সুশান্ত দাস গুপ্ত। অভিযোগপত্রে সবচেয়ে গুরুতর বিষয়গুলোর একটি হিসেবে বাঁধনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ছড়িয়ে পড়া ইসলামপন্থী ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে কথিত যোগাযোগের অভিযোগ সরকারি নথির মাধ্যমে যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষভাবে ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান বেকারি সন্ত্রাসী হামলা এবং নব্য জেএমবি-সংক্রান্ত কোনো মূল গোয়েন্দা, আর্থিক, যোগাযোগ বা বিচারিক নথিতে বাঁধনের নাম বা ভূমিকার কোনো উল্লেখ রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের অনুরোধ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও অনুরোধ করা হয়েছে, বাঁধনের সাম্প্রতিক ইতালি সফরে ব্যবহৃত শেনজেন ভিসা আবেদনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন, অসম্পূর্ণ, বিভ্রান্তিকর বা বস্তুগতভাবে অসত্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল কি না তা মূল ভিসা আবেদন, সহায়ক কাগজপত্র, পরিচয় ও পাসপোর্টের তথ্য, ভ্রমণের ঘোষিত উদ্দেশ্য, আমন্ত্রণ বা উৎসবের স্বীকৃতি, আবাসন, অর্থায়ন এবং প্রবেশ-প্রস্থানের সরকারি তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হোক।

এ ছাড়া বাঁধনকে ঘিরে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও যাচাইয়ের জন্য উত্থাপন করা হয়েছে। একটি প্রকাশিত অভিযোগে একজন সাংবাদিকের ওপর একটি প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে চাপ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এমন যোগাযোগ সত্যিই হয়েছিল কি না এবং হয়ে থাকলে বাঁধনের কোনো নির্দেশ, অনুরোধ বা জ্ঞাত অংশগ্রহণ ছিল কি না, তা মূল যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এরপর অভিযোগপত্রে বাঁধনের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে সহিংসতা ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তার সাবেক স্বামী মাশরুর সিদ্দিকী সনেট অভিযোগ করেছিলেন যে তিনি দীর্ঘদিন মৌখিক ও মানসিক নির্যাতন, অপমান এবং আর্থিক চাপের শিকার হয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০১৫ সালের একটি ঘটনায় বাঁধনের পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করে আহত করেন এবং বাঁধন তার গাড়ির কাচ ভাঙেন। সনেট চিকিৎসা নেওয়া এবং পল্লবী থানায় মামলা করার কথাও জানিয়েছিলেন।

বাঁধন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধেও পাল্টা নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। ফলে অভিযোগপত্রে ইতালীয় কর্তৃপক্ষকে সংবাদমাধ্যমের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অভিযোগ, সাধারণ ডায়েরি, হাসপাতালের চিকিৎসা নথি, গাড়ির ক্ষতির প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং আদালতের নথি সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণের অনুরোধ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সাবেক স্বামীর অভিযোগ অনুযায়ী বিপুল অর্থ ব্যয়, আসবাব ও সম্পত্তি রেখে দেওয়া এবং অর্থনৈতিক চাপের বিষয়গুলো যাচাই করতে ব্যাংক হিসাব, ঋণের নথি, সম্পত্তির দলিল, নির্মাণ ব্যয়ের কাগজপত্র এবং মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।

দাখিলকারী বলেছেন, এতগুলো গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে থাকলেও সেগুলোর প্রকৃত পুলিশি ও বিচারিক পরিণতি সম্পর্কে অস্পষ্টতা রয়েছে। তাই এসব বিষয়কে রাজনৈতিক বিতর্ক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুলিশ, আদালত, অভিবাসন, আর্থিক ও প্রয়োজনে গোয়েন্দা নথির মাধ্যমে স্বাধীনভাবে যাচাই করাই এই আবেদনের মূল উদ্দেশ্য।

বর্তমানে অভিযোগপত্রটি ভেনিস পুলিশের ডিগোস শাখা এবং ভেনিস সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। দাখিলকারী কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রাপ্তিস্বীকার ও রেফারেন্স নম্বরের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং ইতালীয় কর্তৃপক্ষ চাইলে আরও তথ্য ও সহায়ক উপকরণ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

সুশান্ত দাস গুপ্ত, লন্ডন, যুক্তরাজ্য

(তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পুরো বিষয়টি ছড়িয়ে পড়েছে।)

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।