ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্য পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর কর্মচারীর কাছ থেকে ২৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি প্রাইভেট কারে করে আসা চার ব্যক্তি র্যাবের জ্যাকেটের আদলে পোশাক পরে ওই কর্মচারীকে ঘিরে ধরেন। পরে দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে হত্যার হুমকি এবং মারধর করে তাঁর সঙ্গে থাকা টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান তারা।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মো. রেজাউল করিম (৩৮) শুক্রবার বিকেলে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাভার উপজেলার হেমায়েতপুরের পূর্বহাটি উত্তরপাড়া এলাকায় রেজাউল করিমের ‘আর কে এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে গত বৃহস্পতিবার সকালে তিনি তাঁর কর্মচারী মো. ইসরাফিল হককে (৩৮) হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ২৬ লাখ টাকা তুলে আনতে পাঠান।
ব্যাংক থেকে টাকা তোলার পর ইসরাফিল বেলা ১১টার দিকে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারমুখী লেনের দক্ষিণ পাশ থেকে উত্তর পাশে হেঁটে সড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেট কার তাঁর কাছে এসে থামে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গাড়িটিতে চালকসহ চার ব্যক্তি ছিলেন। তাঁদের একজনসহ কয়েকজন র্যাবের জ্যাকেটের আদলে পোশাক পরা অবস্থায় ছিলেন। তাঁরা নিজেদের র্যাব সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ইসরাফিলকে ঘিরে ফেলেন।
এরপর তাঁর কাছে থাকা টাকাভর্তি ব্যাগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ইসরাফিল বাধা দিলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে তাঁর কাছ থেকে ২৬ লাখ টাকা থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে ওই ব্যক্তিরা প্রাইভেট কারে করে সাভারের দিকে চলে যান।
মামলায় ছিনতাইয়ে জড়িত ব্যক্তিদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের কারও নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনাটি এমন একটি সময়ে ঘটেছে, যখন বড় অঙ্কের নগদ অর্থ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাংক থেকে টাকা তোলার পর কেউ দীর্ঘ সময় একই পথে চলাচল করলে বা অর্থ বহনের তথ্য অপরাধীদের কাছে পৌঁছে গেলে ছিনতাইকারীরা সেটিকে কাজে লাগাতে পারে। এ ঘটনায় ব্যাংক থেকে টাকা তোলার পর কর্মচারীকে কীভাবে শনাক্ত করা হয়েছিল, তাঁকে কেউ অনুসরণ করেছিল কি না এবং হামলাকারীরা আগে থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, এ ঘটনায় ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
পুলিশের তদন্তে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটির পরিচয়, ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শী এবং ঘটনার সময় ওই এলাকায় থাকা অন্যান্য তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে র্যাবের পরিচয় ও পোশাকের আদলে জ্যাকেট ব্যবহার করে প্রতারণা বা অপরাধ সংঘটনের অভিযোগটিও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হবে।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং ছিনতাই হওয়া অর্থ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


