খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনে এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে ৬ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) ভোরে স্থানীয় একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত ৬ বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন:
১. মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের ছোট পলখান গ্রামের রশম আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম রফিক (৪৭)।
২. ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জগতপুর গ্রামের সোলেমান ভূঞার ছেলে মোস্তফা কামাল (৩৮)।
৩. ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের সামছুল হকের ছেলে মো. রাজু (৩২)।
৪. একই এলাকার ফাজিলপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মতিনের ছেলে শাহাদাত হোসেন (২৯)।
৫. নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের পূর্ব দেবীপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে মো. জসিম (৩৬)।
৬. একই উপজেলার পরকোট ইউনিয়নের নাহারপুর গ্রামের মো. ওবায়দুল্লার ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৩)।
আহত ব্যক্তির নাম মো. হেলাল (৩৫)। তাঁর বাড়িও ফেনীর দাগনভূঞা এলাকায় বলে প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রবাসী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা গেছে, কুইন্সটাউন শহরের কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশি মালিকানাধীন একটি বড় মুদি দোকান ও সুপারমার্কেটে রাতে কেনাবেচা শেষে কজন কর্মী ভেতরেই ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোর রাতের দিকে আকস্মিকভাবে দোকানটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন গোটা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।
দোকানের ভেতর প্রচুর দাহ্য পদার্থ ও শুষ্ক মালামাল সংরক্ষিত থাকায় আগুনের তীব্রতা হু হু করে বাড়তে থাকে। মূল ফটক ভেতর থেকে বন্ধ থাকা এবং চারপাশে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় ভেতরে আটকা পড়া কর্মীরা বের হওয়ার কোনো সুযোগ পাননি। দ্রুত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো কক্ষ। প্রবাসীদের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত দক্ষিণ আফ্রিকান ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় তিন ঘণ্টার নিরলস চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা। পরে ভবনের ভেতর থেকে ৬ জনের পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয় এবং গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ১ জনকে উদ্ধার করে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তির শরীরের বড় একটি অংশ দগ্ধ হওয়ায় তাঁর অবস্থা বেশ সংকটজনক।
প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।
একই সাথে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রবাসীদের মধ্যে চরম শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে নিহতদের নিজ নিজ গ্রামে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে বইছে মাতম। মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রিটোরিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।