খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুলাই ২০২৬, ৭:৪৩ পিএম
দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লাল বলের ক্রিকেটে নামার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে বহুপ্রতিক্ষিত এই সফরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তা। চোটের কারণে দলের একাধিক মূল খেলোয়াড় ছিটকে পড়ায় একপ্রকার খর্বশক্তির দল নিয়েই দেশ ছাড়তে হচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। তবুও অতীতের সব তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে অস্ট্রেলিয়া থেকে জয় কিংবা ভালো পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ক্রিকেটীয় সম্মান নিয়ে ফিরতে চান জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।
গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করে বিসিবি। দল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে গিয়ে চোট আর দলের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা ও প্রত্যাশার মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করেন হাবিবুল বাশার।
ঘোষিত প্রথম টেস্টের দলে সুযোগ পাননি তারকা উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাস ও বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। অন্যদিকে ইনজুরির কারণে পুরো টেস্ট সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন দলের সবচেয়ে গতিময় তরুণ পেসার নাহিদ রানা। ব্যাটিং বিভাগে লিটনের চাতুর্য এবং পেস অ্যাটাকে নাহিদের গতির অভাব বাংলাদেশ দলের শক্তির ভারসাম্যকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
অভিজ্ঞ এই প্রধান নির্বাচক বলেন, “আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও টেস্ট—এই তিন সংস্করণের মধ্যে আমাদের টেস্ট দলটাই সবচেয়ে বেশি গোছানো এবং ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। গত এক বছরে ক্রিকেটাররা দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে বেশ ভালো ছন্দ ও ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে খেলার জন্য যে মানের স্কোয়াড এবং প্রস্তুতি দরকার, আমরা সঠিক পথেই ছিলাম। কিন্তু একদম শেষ মুহূর্তে এসে ইনজুরির ধাক্কা আমাদের সব পরিকল্পনা এলোমেলো করে দিল। আমরা একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চিকিৎসা বিভাগের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ছিলাম, কিন্তু পেশাদার খেলায় সবকিছু নিজের মনের মতো হয় না।”
ব্যাটিং বিভাগের ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে বিসিবির ওপর চাপ ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে শেষ হওয়া ঘরের মাঠের টেস্ট সিরিজেও ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতা চোখে পড়েছিল। সেই জায়গায় অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিতে প্রায় পাঁচ বছর পর টেস্ট স্কোয়াডে ফিরিয়ে আনা হয়েছে অভিজ্ঞ বাঁহাতি ওপেনার সৌম্য সরকারকে।
সৌম্যকে দলে নেওয়ার ব্যাখায় প্রধান নির্বাচক বলেন, “আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে সম্প্রতি যারা রান পেয়েছে, তাদের বড় অংশই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিচারে একেবারেই অনভিজ্ঞ। অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন কন্ডিশন ও মানসম্মত পেস আক্রমণের সামনে সরাসরি নতুনদের নামিয়ে দেওয়াটা বিশাল ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারত। সেই চিন্তা থেকেই আমরা অভিজ্ঞতার বিচারে সৌম্য সরকারকে বেছে নিয়েছি।”
অন্যদিকে একসঙ্গে এতগুলো পেসার চোটে পড়ার ঘটনায় বিসিবির মেডিকেল বিভাগ ও ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের সঠিক বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে নাহিদ রানাকে নিয়ে কোনো ধরনের পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তবে সেই সমালোচনা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাবিবুল বাশার। তাঁর যুক্তি, “একজন পেস বোলারের জন্য অতিরিক্ত বোলিং করা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি একদম বোলিং না করাও বিপজ্জনক। তাদের একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড বজায় রেখে ফিট থাকতে হয়, যাকে আমরা ‘গ্রিন জোন’ বলি। সেই কারণেই ওকে কয়েকটি ম্যাচে বল করানো জরুরি ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সে সেখানেই চোটে পড়ে।”
দলে এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও হতাশায় ভেঙে পড়তে নারাজ নির্বাচক প্যানেল। এই দলেই স্কোয়াডে যুক্ত হয়েছেন তরুণ পেসার মুশফিক হাসান, যিনি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট ম্যাচ খেলার স্বপ্ন দেখছেন। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ যখন শেষবার অজিদের মাঠে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল, মুশফিকের জন্ম হয়েছিল তারও এক বছর পর। এই নতুনদের ওপর ভরসা রেখেই মাঠে লড়াই করার শক্ত মানসিকতার বার্তা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। চোটের মেঘ কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে খেলোয়াড়রা শতভাগ উজাড় করে দিয়ে সম্মানজনক ফলাফল বয়ে আনবে—এমনটাই প্রত্যাশা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের।
মন্তব্য