ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে স্বামীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে এক তরুণীকে (১৯) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের পর ভুক্তভোগীকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্ত জসিম মিয়াকে (৩৫) হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বিজয়নগর উপজেলার অন্তর্গত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বুধন্তি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার জসিম বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের আলিনগর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্যাতিত তরুণীর মূল বাড়ি নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলায়। প্রায় আট মাস আগে নেত্রকোনা জেলার এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাঁর স্বামী জীবিকার তাগিদে বিজয়নগর উপজেলার একটি স্থানীয় বেকারিতে চাকরি করেন। স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে সোমবার নোয়াখালী থেকে বাসযোগে রওনা হয়ে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় পৌঁছান তিনি। সেখান থেকে বিজয়নগর যাওয়ার উদ্দেশ্যে কুমিল্লা-সিলেট রুটের একটি বাসে ওঠেন। একই বাসের পাশাপাশি আসনে যাত্রী হিসেবে ছিলেন অভিযুক্ত জসিম মিয়া। যাত্রাপথে কথা বলার একপর্যায়ে তরুণীর গন্তব্যের কথা জানতে পারেন জসিম।
সহায়তার কথা বলে চতুর জসিম তরুণীকে নির্ধারিত গন্তব্যে নামতে না দিয়ে কৌশলে হবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকায় নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেখান থেকে স্বামীকে খুঁজে দেওয়ার কথা বলে বিজয়নগরের সাতবর্গ এলাকার মনিহার সিনেমা হলের পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি কারখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই অভিযুক্ত জসিম ওই তরুণীকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত জসিম একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ওই তরুণীকে নিয়ে স্বামীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে আবার রওনা হন। বিজয়নগরের বুধন্তি এলাকায় পৌঁছালে তিনি চলন্ত অটোরিকশা থেকে জোরপূর্বক তরুণীকে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর এই অস্বাভাবিক আচরণ দেখে অটোরিকশার অন্যান্য যাত্রী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের সন্দেহ হয়। তারা জসিমকে ঘটনাস্থলেই আটকে রেখে তাৎক্ষণিক পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে বিজয়নগর মডেল থানার ইসলামপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত জসিমকে হেফাজতে নেয় এবং ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করে।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ জানান, নির্যাতিত তরুণী নিজে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রমাণের জন্য তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশে সোপর্দ করা জসিমকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।


