সিলেটে রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা বয়কট করল স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপি

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো একদিনের সরকারি সফরে সিলেটে আসেন রাষ্ট্রপ্রধান। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে এক নাগরিক সংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। তবে সিসিকের সমন্বয়হীনতা, খামখেয়ালি এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ তুলে উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্যসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক জ্যেষ্ঠ নেতা।
মঙ্গলাবারের এই উচ্চপর্যায়ের সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সিলেটে পৌঁছে পুণ্যভূমি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারত করেন। পরবর্তীতে তিনি সিসিক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। মাজার জিয়ারত ও বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানালেও সিটি করপোরেশনের মূল সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন করেন বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা।
দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কোনো রূপ পরামর্শ না করে একতরফাভাবে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতিত দলের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে উল্টো অপদস্থ করার প্রতিবাদে তারা এই অবস্থান নেন। সংবর্ধনা বর্জন করা বিশিষ্ট নেতাদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, দলের ক্ষুদ্রঋণ ও কুটির শিল্পবিষয়ক সহ-সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক মো. বদরুজ্জামান সেলিম।
সংবর্ধনা বয়কটের কারণ ব্যাখ্যা করে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিমানবন্দরের অভ্যর্থনা থেকে শুরু করে দুই মাজার জিয়ারতের কর্মসূচিতে তারা রাষ্ট্রপ্রধানের সাথেই ছিলেন এবং প্রশাসনিক সহায়তায় যুক্ত ছিলেন। কিন্তু সিসিক প্রশাসক প্রথা অনুযায়ী নাগরিক কমিটি গঠন না করে নিজস্ব খামখেয়ালিতে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন। একই সাথে আগের প্রটোকল বজায় না রেখে জ্যেষ্ঠ নেতাদের গাড়ি মাজার এলাকায় প্রবেশে বাধা দেওয়াসহ নানাভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। ফলে ক্ষুব্ধ হয়েই তারা সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, রাষ্ট্রপতির সম্মান ও পদের প্রতি তাঁদের পূর্ণ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। তবে গত দেড় দশকের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে যারা হামলা, মামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন, সিসিক প্রাঙ্গণের অনুষ্ঠানে তাদের একটি বড় অংশকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। একজন রাজপথের কর্মী হিসেবে নির্যাতিত সহযোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলেই বিবেক থেকে তিনি সংবর্ধনা বর্জন করেছেন।
মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনও নিশ্চিত করেছেন যে মাজার জিয়ারতে উপস্থিতি ও বিমানবন্দরে বিদায় জানানোর প্রটোকল অক্ষুণ্ন থাকলেও সিসিকের মূল সংবর্ধনা মঞ্চে স্থানীয় বিএনপির কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি।
Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।