খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বেসরকারি হাসপাতালের এক নার্সকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং কৌশলে ৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নার্স ন্যায়বিচারের দাবিতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের নাম রুমান হোসেন (২৮)। তিনি জামালপুর সদর উপজেলার ডৌয়াতলা গ্রামের আক্তার আলীর ছেলে। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রুমান বর্তমানে ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে কর্মরত রয়েছেন।
পুলিশে দায়ের করা লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রুমান হোসেনের সঙ্গে ওই নার্সের প্রথম পরিচয় হয়। সময়ের ব্যবধানে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাঝখানে কিছুদিন তাদের যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও ২০২৫ সালের শেষের দিকে রুমান আবার ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন এবং সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেন।
বিয়ের কথা পাকা করার পাশাপাশি নিজের পারিবারিক তীব্র আর্থিক সংকটের কথা জানান রুমান। ঋণ পরিশোধের অজুহাতে তিনি তরুণীর কাছে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা চান। তরুণী ও তাঁর পরিবার রুমানকে সরল বিশ্বাসে নগদ টাকা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ৩৪ বারে সর্বমোট ৮ লাখ টাকা প্রদান করেন।
অর্থ নেওয়ার এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই বিয়ের প্রলোভন দিয়ে রুমান ভুক্তভোগীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। সর্বশেষ চলতি বছরের মার্চ মাসে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণীকে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলেও পরে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিয়ে না করে তাঁকে নিজ বাসায় পৌঁছে দিয়ে কেটে পড়েন রুমান।
পরবর্তীতে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়া এবং বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য চাপ দিলে রুমান নানা তালবাহানা ও অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে উভয় পরিবারের সম্মতিতে চলতি বছরের ৫ জুন বিয়ের দিন ধার্য করা হয়। তবে নির্ধারিত দিনে রুমান কিংবা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যই বিয়েবাড়িতে উপস্থিত হননি। এই ঘটনার পর থেকেই রুমান নিজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ করে দিয়ে ওই নার্সের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তরুণীর পরিবার অভিযুক্তের গ্রামের বাড়িতে খোঁজখবর নিতে শুরু করে। ভুক্তভোগী নার্সের বাবা আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, জামালপুরে রুমানের স্থায়ী ঠিকানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় রুমান বহু আগেই বিবাহিত এবং তাঁর ঘরে সাত বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মূলত তাঁর মেয়ের সরলতার সুযোগ নিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই রুমান অবিবাহিত পরিচয়ে ভালোবাসার নাটক সাজিয়েছিলেন। তারা এই জঘন্য প্রতারণা ও অপরাধের কঠোর শাস্তি ও উপযুক্ত বিচার চান।
অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য রুমান হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ তারা হাতে পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।