খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলায় একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আপন দুই ভাই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। একই মোটরসাইকেলে থাকা আরও একজন আরোহী এই ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত গতি এবং অসতর্কতার কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নোয়াখালী জেলার কানকিরহাট-ছাতারপাইয়া-সোনাইমুড়ী আঞ্চলিক সড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেনবাগ উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের অন্তর্গত ‘মুন্সি দোকান’ নামক স্থানে মোটরসাইকেলটি পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় দ্রুতগামী মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশে তীব্রভাবে আছড়ে পড়ে। মোটরসাইকেলের তিন আরোহীই ছিটকে পড়ে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তাঁদের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে আশেপাশের স্থানীয় বাসিন্দা এবং পথচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। তাঁরা রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ছাতারপাইয়া বাজারের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে (প্রাইভেট ক্লিনিক) নিয়ে যান। তবে ক্লিনিকে পৌঁছানোর পর সেখানকার জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিনজনের মধ্যে দুজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত দুই ভাই হলেন আসিফ এবং আরিফ। তাঁরা নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরা ডমুরুয়া গ্রামের ‘মুসলিম স্বর্ণাকার বাড়ির’ মো. আলমের ছেলে। নিহতদের বাবা মো. আলম পেশায় একজন সিএনজি চালিত অটোরিকশাচালক। দুই ছেলেকে একসঙ্গে হারিয়ে পরিবার ও ডমুরুয়া গ্রামজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত অপর ব্যক্তির নাম শাওন। তিনি নিহতদের একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ছাতারপাইয়া বাজারের ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শাওনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দ্রুত নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয় সেনবাগ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। এ ব্যাপারে সেনবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুর রহিম সরকার শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন যে, দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই সেনবাগ থানা থেকে পুলিশের একটি বিশেষ ফোর্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পুলিশ সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছেন। তদন্তকারী পুলিশ দল ও ফোর্স থানায় ফিরে এলে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন হলে এই সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া ও বিস্তারিত তথ্য সরকারিভাবে জানানো সম্ভব হবে। বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।