খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ৩:৫৮ পিএম
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংক থেকে গীতা রানী (৪৫) নামে এক স্কুলশিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত গীতা রানী একদন্ত ইউনিয়নের একদন্ত বারইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং নন্দ দাসের স্ত্রী। তিনি চাচকিয়া ব্র্যাক স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তাঁর স্বামী ঢাকায় থাকেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
আটঘরিয়া থানার পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা গীতা রানীর বাড়িতে সিঁধ কেটে প্রবেশ করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই সময় তিনি বিষয়টি টের পেলে ঘরের ভেতরেই দুর্বৃত্তদের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। হত্যার পর মরদেহটি বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকের মধ্যে ফেলে রাখা হয় বলে স্থানীয়দের ধারণা।
বৃহস্পতিবার সকালে গীতা রানীকে বাড়িতে না পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের টয়লেটের ট্যাংকের ভেতরে তাঁর মরদেহ দেখতে পান তাঁরা। খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গীতা রানীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডে কতজন জড়িত ছিল এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন স্কুলশিক্ষিকা নিজ বাড়িতে একা থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছেন কি না, নাকি এর পেছনে ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে বাড়িতে সিঁধ কেটে প্রবেশের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
আটঘরিয়া থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, কারা, কেন এবং কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য