খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ৩:৫১ পিএম
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের কাছে একটি খালি মাঠ থেকে আবদুল আজিজ (২৭) নামের এক হোটেল কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ নির্জন জায়গায় ফেলে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ইনানী সৈকতের পূর্ব পাশে অবস্থিত পাঁচতারকা হোটেল বে-ওয়াচের স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের একটি খালি জায়গা থেকে আবদুল আজিজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত আবদুল আজিজ উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জুম্মাপাড়ার বাসিন্দা রশিদ আহমদের ছেলে। তিনি প্রায় এক বছর ধরে বে-ওয়াচ হোটেলে কর্মরত ছিলেন। তাঁর দায়িত্ব ছিল হোটেলের গরুর খামার দেখাশোনা ও পরিচর্যা করা। কর্মস্থলের কাছেই স্টাফ কোয়ার্টারে তিনি থাকতেন।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, রাত সোয়া ১২টার দিকে হোটেলের স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের খালি জায়গায় আবদুল আজিজের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন দেখা গেছে। তবে কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
নিহতের স্ত্রী সায়কা ইয়াছমিন জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে আজিজ তাঁর কর্মস্থলে ফিরে যান। পরদিন বুধবার বেলা ১১টার দিকে মুঠোফোনে স্বামীর সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। এরপর রাতে তিনি জানতে পারেন, হোটেলের স্টাফ কোয়ার্টারের পাশের মাঠে আজিজের মরদেহ পড়ে আছে। রাত একটার দিকে খবরটি পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ও শোক নেমে আসে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, আজিজকে মারধর অথবা শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তাঁদের অভিযোগের সত্যতা অবশ্য তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। পরিবারটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
নিহতের স্ত্রী সায়কা ইয়াছমিন বলেন, তাঁদের সংসারে তিনটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে কীভাবে সন্তানদের নিয়ে জীবন চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
স্থানীয় পর্যায়েও ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আবদুল আজিজ ছিলেন পরিশ্রমী এক যুবক। তাঁর মৃত্যু রহস্যজনক হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে হোটেলের স্টাফ কোয়ার্টার ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করার কথাও বলেন তিনি। এতে আজিজের শেষ চলাফেরা এবং ঘটনার আগে বা পরে সেখানে কারা ছিলেন, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যেতে পারে বলে তাঁর মত।
এদিকে বে-ওয়াচ হোটেলের উপমহাব্যবস্থাপক এনায়েত উল্লাহ জানান, আবদুল আজিজ হোটেলের গরুর খামারের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন এবং তিনি স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁর মৃত্যুর ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
পুলিশের তদন্তে এখন মূলত কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে—আজিজের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তাঁর শরীরে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে এবং মৃত্যুর আগে তিনি কার সঙ্গে বা কোথায় ছিলেন। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আশপাশের তথ্য, সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শী এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হতে পারে। ময়নাতদন্তের ফলাফল ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই এটি হত্যাকাণ্ড, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে। পুলিশও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পরবর্তী ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
মন্তব্য