ইতালিয়ান ফুটবল লিগ সিরি ‘আ’-তে অবিশ্বাস্য এক ঘুরে দাঁড়ানোর রোমাঞ্চকর গল্প লিখল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলান। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ প্রতিরোধ গড়ে তুলে শক্তিশালী নাপোলিকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। ঘরের মাঠ ঐতিহাসিক সান সিরোয় ঘরের দর্শকদের সামনে জোড়া গোল করে ম্যাচের মূল নায়ক বনে যান অধিনায়ক লাউতারো মার্টিনেজ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতের এই দুর্দান্ত জয়ে নতুন মৌসুমে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান মজবুত করল জায়ান্টরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, যেখানে দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে খেললেও ডেডলক ভাঙতে পারেনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তিন মিনিটের এক অবিশ্বাস্য ঝড়ে সান সিরোকে স্তব্ধ করে দেয় নাপোলি। ৫০ মিনিটে প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ফিরতি বল থেকে চোখধাঁধানো নিচু শটে অতিথিদের এগিয়ে দেন মাত্তেও পলিতানো। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৫৩ মিনিটে আবারও ইন্টারের জালে বল পাঠান রাসমুস হইলুন্দ। বাঁকানো দারুণ এক শটে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই তারকা, যা লিগে তাঁর টানা দ্বিতীয় গোল।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েনি ইন্টার মিলান। নিজেদের চেনা ডেরায় দ্রুতই ব্যবধান কমাতে মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। নাপোলির দ্বিতীয় গোলের ঠিক তিন মিনিট পরই দলের ঘুরে দাঁড়ানোর সূচনা করেন ইন্টার অধিনায়ক লাউতারো মার্টিনেজ। মাঠের দাগ পেরিয়ে প্রায় বাইরে চলে যেতে বসা বলকে অসাধারণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে এনে ক্রস বাড়ান ফেদেরিকো দিমার্কো। আর সেই পাসের সুযোগ নিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-১ করেন এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার।
ব্যথা পেয়েও আক্রমণ অব্যাহত রাখা ইন্টারকে সমতায় ফেরানোর সুযোগ এনে দিয়েছিলেন মার্কাস থুরাম, কিন্তু তাঁর একটি শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। ভাগ্য বিরূপ হলেও হাল ছাড়েননি এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আট মিনিট আগে ডান দিকের কোণ থেকে আসা নিখুঁত এক হেডে নাপোলির জাল কাঁপিয়ে সান সিরোকে ২-২ সমতায় ফেরান থুরাম।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে জমা ছিল মূল নাটকীয়তা। সমতায় ফেরার পর জয়ের জন্য মরিয়া ইন্টার আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয়। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের একেবারে শেষ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে ঠান্ডা মাথার সটান ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের জয়সূচক গোলটি করেন মার্টিনেজ। লাউতারোর এই নাটকীয় গোলে ৩-২ ব্যবধানের অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত হতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো সান সিরোর গ্যালারি।



