খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
গাজীপুরের টঙ্গীতে রেলক্রসিংয়ে সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পারাপারের সময় আন্তঃনগর ট্রেনের ধাক্কায় একটি মোটরসাইকেল ছিটকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে মোটরসাইকেলটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চালক অপু মিয়া (৩৯) প্রাণে বেঁচে গেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মুহূর্তের বিচক্ষণতায় তিনি লাফ দিয়ে সরে যেতে সক্ষম হন, যা বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়াতে সহায়ক হয়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা–টঙ্গী রেলপথের টঙ্গী নতুন বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ঢাকাগামী একটি আন্তঃনগর যাত্রীবাহী ট্রেন রেলক্রসিং অতিক্রম করছিল। রেলগেট বন্ধ থাকলেও চালক অপু মিয়া পকেট গেট ব্যবহার করে দ্রুত রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনায় আহত অপু মিয়া গাজীপুরের পূবাইল এলাকার পদহারবাইদ গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। তিনি টঙ্গী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল লেখক হিসেবে কর্মরত।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেন আসার সময় মূল রেলগেট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল। নিরাপত্তা নির্দেশনা উপেক্ষা করে অপু মিয়া মোটরসাইকেল নিয়ে পকেট গেট দিয়ে রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তে মোটরসাইকেলটি রেললাইনে উঠতেই ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লাগে এবং সেটি দূরে ছিটকে পড়ে। তবে তিনি দ্রুত সরে যেতে পারায় প্রাণে রক্ষা পান, যদিও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পান।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার সাধারণ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| দুর্ঘটনার স্থান | টঙ্গী নতুন বাজার রেলক্রসিং |
| সময় | ২৯ এপ্রিল, রাত সাড়ে ৭টা |
| ট্রেন | ঢাকাগামী আন্তঃনগর যাত্রীবাহী ট্রেন |
| ভুক্তভোগী | অপু মিয়া (৩৯) |
| পেশা | দলিল লেখক |
| আঘাত | হালকা শারীরিক আঘাত |
| অবস্থা | মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত, চালক জীবিত |
টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর আলম হোসেন জানান, সিগন্যাল থাকার কারণে রেলগেট বন্ধ ছিল। ঝুঁকি নিয়ে পকেট গেট দিয়ে পারাপারের সময়ই এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে রেলক্রসিং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যস্ত এই রেলপথে নিয়মিত যাত্রী ও যানবাহনের চাপ থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, রেলক্রসিং এলাকায় আরও কঠোর নজরদারি, সচেতনতামূলক প্রচার এবং বিকল্প নিরাপদ পারাপার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।