খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং-২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে এবং আরও তিনটি বিমানকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি এ দাবি জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার বদলা নিতেই জর্ডানের ওই ঘাঁটির বিমান পার্কিং এলাকা ও একটি রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে এই সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তিগত কর্মীও নিহত হয়েছেন। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ফারস নিউজ’ এবং ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এ খবরটি প্রকাশিত হলেও ওয়াশিংটন এখনো এই ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা তথ্য নিশ্চিত করেনি। এছাড়া স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমানের বাজারমূল্য কনফিগারেশনভেদে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। ফলে এই দাবি সত্য হলে কেবল তিনটি ধ্বংসপ্রাপ্ত যুদ্ধবিমানের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণই দাঁড়াবে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের উর্ধ্বে।
ইরানের এই ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছিল যে, জর্ডানের ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তারা আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট কয়েক ডজন কৌশলগত স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কেন্দ্র এবং উপকূলীয় নজরদারি পোস্ট অন্যতম। অন্যদিকে, কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলায় ৩ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
চলমান সংঘাত এখন ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি কুয়েতে ইরানের হামলায় একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে একজন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
বিশ্বের অন্যতম আধুনিক এই বহুমুখী স্টেলথ যুদ্ধবিমান সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় হাতিয়ার:
স্টেলথ প্রযুক্তি ও গতি: প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির শক্তিশালী এফ-১৩৫ ইঞ্জিনচালিত এই বিমান ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মাক ১.৬ গতিতে উড়তে পারে এবং শত্রুর রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম।
সেন্সর ফিউশন ও নেটওয়ার্কিং: এতে রয়েছে উন্নত সেন্সর প্রযুক্তি, যা যুদ্ধের ময়দানে একযোগে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত, অনুসরণ ও নিখুঁত হামলা চালানোর পাশাপাশি মিত্র বাহিনীর সঙ্গে মুহূর্তেই তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।
রণকৌশলগত ব্যবহার: মূলত শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকেজো করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়ে অন্যান্য বিমানের পথ সুগম করতেই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র এই বিমান ব্যবহার করছে।
মন্তব্য